
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চর খিদির এলাকায় ইভটিজিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক শালিস বৈঠকে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় এক কিশোরকে গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বাবুল হোসেন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় ১১ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর খিদির এলাকার জাহিদুল ইসলামের নাবালিকা মেয়েকে (১৪) একই এলাকার হাসান মিয়া (২২) দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দিয়ে উক্ত্যক্ত করে আসছিল। গত (২ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে টিভি দেখে ফেরার পথে হাসান মিয়া জোরপূর্বক ওই কিশোরীকে ঝাপটে ধরে তার শয়নকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। এ ঘটনার জেরে গত (৪ জুলাই) বিকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে চর খিদির এলাকার মোতালেব হোসেনের বাড়ির উঠানে একটি শালিস বৈঠক বসে।
শালিস চলাকালীন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আসামী মজিবুর রহমানের হুকুমে হাসান মিয়া, ঈমান আলী, জামালসহ অন্যান্যরা অতর্কিত লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মামলার বাদী বাবুল হোসেন ও তার ছেলে রাকিব (১৬), ফুফাতো ভাই জাহিদুল, চাচাতো ভাই কাউসার (২৩), শফি ও চাচাতো ভাবী কমলাকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে। রাকিবের মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। রাকিব মাটিতে পড়ে গেলে অন্য আসামীরা তাকে লাথি ও কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এছাড়া হামলাকারীরা ভোক্তভোগীর পক্ষের মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে এবং কাউসারের পকেট থেকে নগদ ৫,৬০০ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে রাকিব হোসেন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যাওয়ার সময় আসামীরা ভুক্তভোগীদের খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাবুল হোসেন জানান, ছেলের চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং পরিবারের সাথে আলোচনার কারণে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি এই ন্যাক্কারজনক হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





