স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মুলত ২৪ ঘন্টায় ৭-৮ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না গ্রাহকরা। কোন কোন এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে আরও কম। একদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অসহনীয় গরম, অপরদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। চলমান বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতেও ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে দর্শকরা। এ নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মাঝেও ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সখীপুর উপজেলার দেবরাজ, কুতুবপুর, কালমেঘা, বড়চওনা, ইন্দ্রজানি, গড়বাড়ি, হামিদপুর, হতেয়া, রাজাবাড়ি, যাদবপুর, বেড়বাড়ি নলুয়া, পাথারপুর, বাঘবেড়, কীর্তন খোলা, বেতুয়া, কালিয়ান, গড় গোবিন্দপুর দাড়িয়াপুর, লাঙ্গুলিয়াসহ পুরো উপজেলার একই চিত্র।
সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান গ্রামের আমির হোসেন বলেন, বেতুয়া ফিডে ২৪ ঘন্টায় ৬-৭ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না গ্রাহকরা। একঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের তিন-চার ঘন্টা আর থাকে না। উপজেলা হতেয়া রাজাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা শাহাদত হোসেন জসীম বলেন, আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের অবস্থা ভয়াবহ। একবার গেলে আসার আর নামই নেয় না। প্রচন্ড গরমের মধ্যে আবার লোডশেডিং একেবারে অসহ্য অবস্থায় হয়ে পড়েছে। কীর্ত্তন খোলা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী রাজ্জাক মন্ডল বলেন, সকাল ১০টায় কারেন্ট যায়, সেই কারেন্ট আসে দুপুর ২টা আড়াইটার সময়। অনেক সময় সন্ধ্যা ৬টার সময় আসে। বিদ্যুতের এই দূরবস্থায় এখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে।
বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং বিষয়ে সখীপুর উপজেলা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, সখীপুর উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩০ মেগাওয়াট। আর বর্তমানে টাঙ্গাইল থেকে পাওয়া কথা ১৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সবমিলিয়ে পাই ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ভালুকা থেকে পাওয়ার কথা ৮ মেগাওয়াট। কিন্তু পাই সর্বোচ্চ ৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।