
ডেক্স রিপোর্ট॥
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঘোষিত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির তৃতীয় দিনে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কর্মসূচিতে ভূঞাপুরের জুলাই শহীদদের স্মরণ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে উপজেলার শহীদ পলাশ চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ডা. আতিক মুজাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ জেলা ও উপজেলার নেতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় ভূঞাপুর উপজেলার ঘাটান্দি এলাকার বাসিন্দা শহীদ ফিরোজ তালুকদার পলাশ (৩৮) ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার নলিন গ্রামের শহীদ ইমনের আত্মত্যাগের কথা অনুষ্ঠানে একবারও উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি যে স্থানে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই চত্বরটির নামই ‘শহীদ পলাশ চত্বর’ হলেও মূল ব্যানার কিংবা আলোচনায় স্থানীয় শহীদকে স্মরণ করা হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যে আন্দোলনের চেতনা ও আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, সেই আন্দোলনের স্থানীয় শহীদদের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা জানানো হলো না কেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান তপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, শহীদ পলাশ চত্বরে জুলাই পদযাত্রা হলেও কেন্দ্রীয় নেতারা শহীদ পলাশের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। যে আন্দোলনের সফলতার ওপর দাঁড়িয়ে আজকের কর্মসূচি, সেই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ না করায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রবি লিখেছেন, ভূঞাপুরে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পলাশ ও শহীদ ইমনকে স্মরণ না করায় সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জুলাই আন্দোলনের সফলতায় ভূঞাপুরেরও রক্তঝরা ইতিহাস রয়েছে। শহীদ পলাশ ও শহীদ ইমনের আত্মত্যাগ এ অঞ্চলের মানুষের কাছে গর্বের বিষয়। অথচ তাদের স্মরণ না করেই শহীদ পলাশ চত্বরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু বলেন, শহীদ পলাশ আমাদের যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এই এলাকার আরেক শহীদ ইমনও জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন। অথচ শহীদ পলাশ চত্বরে দাঁড়িয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে এই দুই শহীদের একজনের নামও উচ্চারণ করা হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ভূঞাপুরবাসীর জন্য কষ্টের। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা সত্যিকার অর্থে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেন, তারা কখনোই জুলাইয়ের যোদ্ধা ও শহীদদের উপেক্ষা করতে পারেন না। আমাদের মনে হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের স্বার্থে কোনো কাজ করছেন না; বরং জুলাইয়ের চেতনাকেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেল বলেন, আমাদের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে মাত্র একজন বক্তব্য দিয়েছেন। আমি শুধু কয়েক মিনিট সঞ্চালনা করেছি। মূল বক্তব্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা হয়তো জানতেন না যে কর্মসূচিটি শহীদ পলাশ চত্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি আমাদের একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। আমরা যদি আগে বিষয়টি জানতাম, তাহলে অবশ্যই বক্তব্যে শহীদ পলাশের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতাম। তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইলে জুলাই আন্দোলনের ৯ জন শহীদ রয়েছেন। আমরা সব সময় তাদের সম্মিলিতভাবে স্মরণ করি। আজকের বক্তব্যেও জুলাই শহীদদের কথা বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। আমরা সাধারণত প্রতিটি কর্মসূচির শুরুতেই শহীদদের স্মরণ করি এবং তাদের পরিবারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখি।
তথ্য সূত্র- সময়ের কন্ঠস্বর।





