স্পোর্টস রিপোর্টার ॥
বিশ্বকাপ ফুটবলের জোয়ার যখন তুঙ্গে, বর্তমান আসর এখন নকআউট কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের রোমাঞ্চকর মুর্হুত! ঠিক তখনই টাঙ্গাইলে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ লীগ পদ্ধতিতে দশম বারের মতো টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৩টায়। এই টুর্নামেন্টের আয়োজনে মাধ্যমে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ নতুন রুপে আর্বিভূত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ মানেই বাংলাদেশের বিখ্যাত আবাহনী, মোহামেডানসহ দেশের নামীদামী ক্লাবের অংশগ্রহণ ছিলো। কিন্তু সেই ঐহিত্য হারিয়ে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে অংশগ্রহণ করছে জেলার ১২টি উপজেলার ফুটবল দল। যদিও টুর্নামেন্টের মান সর্বোচ্চ পর্যায় রাখতে প্রতিটি দলে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে ৫জন করে বিদেশী ফুটবলার খেলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পেশাদার ফুটবল ছাড়াও দেশের বাইরের ৫ জন ফুটবলার অতিথি ফুটবলার হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবে। যা টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়াবে এবং বাড়বে খেলার মাঠের দর্শক।
ফুটবল জনপ্রিয় খেলা। বিশেষ করে এখনও গ্রামাঞ্চলে ফুটবলের চাহিদা আকাশচুম্বি। উপচেপড়া দর্শক নিয়ে গ্রামাঞ্চলে ফুটবল খেলা হয়ে থাকে। এই খেলাগুলোতে দেশীসহ বিদেশী ফুটবলাররা অংশগ্রহণ করে থাকে। বিশেষ করে নাইজেরিয়া কিংবা ঘানার ফুটবলাররা চমৎকার ফুটবল প্রদর্শনের মাঝে গোল করার পর অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করেন। যা উপস্থিত দর্শকদের অভিভূত করে।
জেলার ১২টি উপজেলা নিয়ে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ পদ্ধতিতে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করছেন জেলা প্রশাসন। ফুটবলে ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ পদ্ধতি হলো দুটি দল একে অপরের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে এবং প্রতিপক্ষের মাঠে মোট দুটি ম্যাচ খেলে থাকে।
উপজেলার প্রতিটি দল প্রথম এবং নকআউট পর্বে হোম অ্যাওয়ে পদ্ধতির দুটি ম্যাচে অংশগ্রহণ করে দুই ম্যাচের মোট গোলের যোগফল দিয়ে জয়লাভ করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্ব সুপার সিক্সে উঠবে। প্রয়োজনে এগ্রিগেট স্কোর পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হবে। সুপার সিক্সে ২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রত্যেকে ২টি করে ম্যাচ খেলে সেমিফাইনাল বিজয়ীরা ফাইনালে অংশগ্রহণ করবে।
হোম অ্যাওয়ে পদ্ধতির প্রথম লেগে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী দিনে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে টাঙ্গাইল সদর বনাম বাসাইল উপজেলা দল মুখোমুখি হবে। একই দিনে মধুপুর রাণী ভবানী মডেল সরকারি উচ্চ মাঠে মধুপুর উপজেলা বনাম ঘাটাইল উপজেলা, গোপালপুর সুতী ভি এম পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধনবাড়ী বনাম গোপালপুর উপজেলা, ভূঞাপুর ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজ মাঠে কালিহাতী বনাম ভূঞাপুর উপজেলা, নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠে দেলদুয়ার বনাম নাগরপুর উপজেলা এবং সখীপুর উপজেলা পরিষদ খেলার মাঠে মির্জাপুর বনাম সখীপুর উপজেলা মুখোমুখি হবে।
হোম অ্যাওয়ে পদ্ধতির দ্বিতীয় লেগে সোমবার (১৩ জুলাই) ঘাটাইল জিবিজি কলেজ মাঠে ঘাটাইল বনাম মধুপুর উপজেলা, ধনবাড়ি সরকারি কলেজ মাঠে গোপালপুর বনাম ধনবাড়ী উপজেলা, কালিহাতী আর এস সরকারি পাইলট মডেল কলেজ মাঠে ভূঞাপুর বনাম কালিহাতী উপজেলা, বাসাইল উপজেলা মাঠে টাঙ্গাইল সদর বনাম বাসাইল উপজেলা, দেলদুয়ার উপজেলা স্টেডিয়ামে নাগরপুর বনাম দেলদুয়ার উপজেলা এবং মির্জাপুর মিনি স্টেডিয়ামে সখীপুর বনাম মির্জাপুর উপজেলা দল মুখোমুখি হবে।
আগামী (১৯ জুলাই) থেকে (২৫ জুলাই) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সুপার সিক্স পর্ব এবং একই মাঠে আগামী (২৮ ও ২৯ জুলাই) সেমিফাইনাল এবং আগামী (১ আগস্ট) টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, বিগত ১৯৮০ সালে সাবেক জেলা প্রশাসক রেজাউল ইসলাম জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ আয়োজন করে টাঙ্গাইলে ফুটবলের নবজাগরণ সৃষ্টি করেন। তখন থেকেই ক্রীড়ামোদী দর্শকে ভরপুর থাকতো টাঙ্গাইলের স্টেডিয়াম। বিগত ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯১ সাল টুর্নামেন্ট চলার মাঝে এক যুগ পর বিগত ২০০৪ এবং ২০১৫ সালে আবারো আয়োজন করা হয়েছিল।
টুর্নামেন্টের রোল অব অনার- জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ- ১৯৮০ সাল- আবাহনী, টাঙ্গাইল ও কালেক্টরেট, যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। ১৯৮১ সাল- আজাদ স্পোটিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন, ঢাকা ফরাশগঞ্জ ক্লাব রানার্সআপ। ১৯৮২ সাল- ডকইয়ার্ড (নারায়ণগঞ্জ) চ্যাম্পিয়ন, রহমতগঞ্জ ক্লাব ঢাকা রানার্সআপ। ১৯৮৩ সাল- কাস্টমস এন্ড এক্্রাইজ ঢাকা চ্যাম্পিয়ন, ঢাকা লালবাগ ক্রীড়া চক্র রানার্স আপ। ১৯৮৪ সাল- কাস্টমস এন্ড এক্্রাইজ ঢাকা চ্যাম্পিয়ন, ইস্ট এন্ড ক্লাব টাঙ্গাইল রানার্স আপ। ১৯৮৯ সাল- কাস্টমস এন্ড এক্্রাইজ ঢাকা চ্যাম্পিয়ন, ঢাকা ব্রাদার্স ইউনিয়ন রানার্স আপ। ১৯৯১ সাল- ঢাকা আবাহনী ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। ২০০৪ সাল- ঢাকা মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদ চ্যাম্পিয়ন, ঢাকা আবাহনী ক্রীড়া চক্র রানার্সআপ। ২০১৫ সাল- টাঙ্গাইল ইয়ুথ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন, ঢাকা বিজেএমসি রানার্সআপ।