স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১১ জন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে দিবাগত রাত পর্যন্ত উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চাকলেশ্বর-থলপাড়া এলাকায় পিকনিকের নৌকায় বিদ্যুৎস্পর্শে দুইজন, বহুরিয়া ইউনিয়নের মুন্দিরাপাড়া মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে একজন ও গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া এলাকায় পাটজাগ দিতে গিয়ে পানিতে ডুবে অপরজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে পিকনিকের নৌকায় বিদ্যুৎস্পর্শে ইটভাটার শ্রমিক রংপুরের সাজ্জাত হোসেন ও শেরপুরের পাকুরিয়া গ্রামের খুজাউরা গ্রামের হাসমত মিয়ার ছেলে জিকুল মিয়ার মৃত্যু হয়। এছাড়া নৌকাযোগে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে সুশান্ত রাজবংশী ও পাটজাগ দিতে গিয়ে রুস্তম আলী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেড়া জমিদার বাড়িতে নৌভ্রমণে আসেন ৩০/৩৫ জনের একটি দল। সন্ধ্যার পর তারা মির্জাপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বংশাই নদীর চাকলেশ্বর-থলপাড়া অতিক্রম করার সময় নদীর ওপর ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে নৌকার ওপরে থাকা কয়েকজন জড়িয়ে পড়েন। এতে এক নারীসহ ৬ জন আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতে বহুরিয়া ইউনিয়নের মুন্দিরাপাড়া অংশের নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ঝুঁলে থাকা বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে সুশান্ত রাজবংশী নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়। পরে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে। অপরদিকে গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামে খালে পাটজাগ দিতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ রুস্তম আলী নামে এক বৃদ্ধ। পরে ফায়াস সার্ভিসের কর্মীরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। পিকনিকের নৌকায় বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধী চারজনের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম আব্দুল হাই।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আইনিপ্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।