স্টাফ রিপোর্টার ॥
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি মিষ্টি আলু-১২ এবং বারি মিষ্টি আলু-১৭ আবাদ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন কৃষক। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ঝিনাই নদীর তীরবর্তী এলাকার পরিত্যক্ত বালি মাটিতে কৃষক মিষ্টি আলুর আবাদ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। যা দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
জানা যায়, বারি মিষ্টি আলু-১২ ও বারি-১৭ জাত দু’টি মূলত উচ্চমাত্রার বিটা-ক্যারোটিন (ভিটামিন-এ এর উৎস) সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গায়ের রং লালচে বা গোলাপি হলেও ভেতরের অংশ উজ্জ্বল কমলা রঙের। এটি খেতে বেশ মিষ্টি এবং নরম। এতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন থাকে। যা শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মাংসল অংশ বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। এটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, পুষ্টির দিক থেকেও অনন্য। হেক্টর প্রতি গড় ফলন প্রায় ৩৫-৪০ টন। এটি সাধারণত ১৪০-১৫০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা যায়। নদীর তীরে বালি পড়ার কারণে এসব জমিতে সাধারণত কোন ফসল হয় না। এই এলাকার কৃষকরা এসব পরিত্যক্ত জমিতে এবার মিষ্টি আলুর আবাদ করে ভাল ফলন পেয়েছেন।

কৃষকরা জানান, বেগুনি রঙের কারণে এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এটি হৃদরোগ ও ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। বাংলাদেশের জলবায়ু ও মাটি মিষ্টি আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে চরাঞ্চল এবং বেলে-দোআঁশ মাটিতে এই দুটি জাতের ফলন ভালো হয়।
এই আলুগুলো শুধু সেদ্ধ করে খাওয়ার জন্য নয়। বরং চিপস, হালুয়া এবং আটা তৈরিতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল এই মিষ্টি আলুর আবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টাঙ্গাইল বারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ইনচার্জ ড. আশিকুর রহমান জানান, বারি-১২ ও ১৭ জাত তার বিশেষ রঙের জন্য পরিচিত। এই আলু অন্য আলুর থেকে দুই থেকে তিন গুণ ফলন বেশি। পুষ্টিগুণেও ভরা। মাঠ পর্যায়ে এই আলুর আবাদ ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি কৃষকদের তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা করছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তারা।