
স্টাফ রিপোর্টার ॥
সপ্তাহের ব্যবধানে টাঙ্গাইলের কাঁচা বাজারগুলোতে অন্তত তিনটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। যার কারণ হিসেবে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি। আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিকে সামনে আনছেন বিক্রেতারা। তবে তাদের এই যুক্তিকে বাড়তি দাম নেওয়ার অজুহাত হিসেবে দেখছেন কোনো কোনো ক্রেতা। শুক্রবার (২৪ জুলাই) টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, সিটি বাজার, সন্তোষ বাজার ঘুরে তরিতরকারির দাম নিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
এদিন সকালে কাঁচাবাজার থেকে ফিরছিলেন এনজিও কর্মী মোহাম্মদ ওসমান। তিনি বলেন, দাম বেশি চায়। টাকায় তো কুলায় না। সপ্তাহে সপ্তাহে তা আয় বাড়ে না। কিছু পণ্য কম কেনার তথ্য দিয়ে এই চাকরিজীবী বলেন, শসা বাদ দিলাম। কাঁচামরিচ নিয়েছি; ডিম-আলু দিয়ে এই কয়দিন চালিয়ে দেব। আবদুল গণির ভাষ্য, কাঁচা মরিচ, শসা ও ধনেপাতা- এই তিনটার দাম বেশি। কাঁচা মরিচের পাল্লা (পাঁচ কেজি) ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। শসা ভাল খারাপ মিলিয়ে কেজি পড়ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর ধনেপাতা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। কিন্তু গত সপ্তাহে কিনেছি ৯০ টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় আড়ত থেকে শসা কেনেননি লতিফ মিয়া। কাঁচা মরিচ ও ধনে পাতার চাহিদা বেশি থাকায় অল্প পরিমাণে কিনেছেন। কাঁচ কলা, পটল, বেগুন ও লেবুও কিনেছেন। তিনি বলেন, কাঁচামরিচ খুচরা কেজি ২০০ করে বিক্রি করছে। ধনে পাতার দামও একই।
অন্যান্য সবজির দাম আগের মতোই আছে বাজারে। কাচঁ কলা হালি ২৫ টাকা কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করছি। বেগুন কেজি ৮০ টাকা ও পটল ৬০ টাকাতে আছে। বৃষ্টি হলেও বাজারে এগুলোর দাম বাড়েনি। এই তিন পণ্যের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাজারের আড়তদার ইসহাক মোল্লা বলেন, এসব মাল রাখা যায় না। পানি লাগলেই পঁচা শুরু করে। দিন এনে দিন বিক্রি করতে হয়। বন্যা হওয়ায় কয়েক দিন ধরে আড়তে এসব মাল কম আসে। এ কারণে দাম বেড়েছে। দেশি শসা ৮০ টাকা, আর হাইব্রিডটা ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। খুচরা ব্যবসায়ীরা আরো ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে বিক্রি করবে।
টাঙ্গাইল শহরের এসব কাঁজাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির অজুহাতে খুচরা বাজারে আরো কিছু সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) কাঁচা বাজারগুলোতে করল্লা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। জাত ও মানভেদে বেগুনের কেজি চাওয়া ৮০ থেকে ১২০ টাকা, যা গেল সপ্তাহের চেয়ে গড়ে ২০ টাকা বেশি। অবশ্য এই সবজির দাম আড়তে বাড়েনি বলে দাবি পাইকারি বিক্রেতাদের।
এদিন কাঁচা বাজারগুলোতে সজনের কেজি বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। ধুন্দলের কেজি ছিল ৬০ টাকা। তবে গেল সপ্তাহের মতো পেঁপের কেজি ৩০ ও মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকাই আছে। ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে কিনলে এসব পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম পড়ছে। খুচরা বিক্রেতা জানে আলম বলেন, বৃষ্টির কারণে সবকিছুর দাম বেশি। এতে আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। সবকিছু কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়ছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনিও পাইকারি বিক্রেতাদের মতো ‘সরবরাহ কমে যাওয়া, বন্যা-বৃষ্টিতে গাড়ি আটকে যাওয়া ও পণ্য পঁচে যাওয়ার’ মতো যুক্তি শুনিয়েছেন।
বাজারগুলোতে ডিম, আলু ও পেঁয়াজের দর অবশ্য আগের সপ্তাহের মতই আছে। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৩০ টাকা ও সাদা ডিম ১২০ টাকা দরে কিনছিলেন ক্রেতারা। মাছ-মাংসের বাজারেও দামের ওঠানামা নেই। গেল সপ্তাহের মতো বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকা, সোনালি কক মুরগি ৩৩০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর গরুর মাংসের কেজি পড়ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা। মাছের বাজারে পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস ২০০ টাকা এবং চাষের কৈ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে।






