স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ৪টি খাল খননের কাজ শেষ করে লৌহজং নদীর মুখ খনন না করেই বরাদ্দের অব্যবহৃত ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৭ টাকা সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। টাঙ্গাইল-২ ভূঞাপুর-গোপালপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সার্বক্ষণিক তদারকিতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের ফলে বরাদ্দের মোটা অঙ্কের এই অর্থ বেঁচে যায় বলে জানান কর্তৃপক্ষ। ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাল পুণঃখনন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ফলদার পাঁচতেরিল্ল্যা, গোবিন্দাসীর খুপিবাড়ী ও অলোয়ার ভারই এলাকায় ৩ হাজার ১৯৫ মিটার খাল পুণঃখননের জন্য ৯০ লাখ ১৬ হাজার ২৬৭ টাকা বরাদ্দ আসে। তার মধ্যে প্রায় ২৮শ’ মিটার খাল খনন সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে খরচ বাদে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয় ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল লতিফ তালুকদার বলেন, খাল পুণঃখনন কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উদ্বৃত্ত নগদ টাকা কোষাগারে ফেরত দেয়ার ঘটনা বিরল। খাল খননের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের কৃষিজমিতে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে। জলাবদ্ধতা কমবে এবং বর্ষার পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সার্বিক সহযোগিতায় খাল পুণঃখনন কর্মসূচি কাজের সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের নির্ধারিত বাজেট থেকে সাশ্রয়ী হওয়ায় অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলেই ফেরত দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, ভূঞাপুরে বিভিন্ন এলাকায় ৪টি খাল পুণঃখনন কর্মসূচি কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা ও সঠিক তদারকির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত বরাদ্দের অর্থ থেকে সাশ্রয়ী হওয়ায় অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, লৌহজং নদীর উৎসমুখ জিয়াউর রহমার নিজে উপস্থিত থেকে খনন কাজ উদ্বোধন করেন। কিন্ত ভূঞাপুরের বালুখেকোরা বালি দিয়ে মুখ বন্ধ করার কারণে ভূঞাপুরের লৌহজং নদীর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে এরশাদ সরকারের আমলে এক কিলোমিটার নদী ২৫ হাত সুইজ গেট করার কারণে ভূঞাপুরের ফলদা, গোপালপুর ঘাটাইলের নদী নাব্যতা হারায়। যার ফলে কয়েক উপজেলা যমুনার পানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।