
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তীব্র জনরোষ এবং নানা ধরনের হুমকির মুখেও চরম আতঙ্ক ও ভীতি নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। গত কয়েকদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও স্থানীয় গ্রাহকদের অসন্তোষের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা সচল রাখতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীদের সামনে পেয়ে সাধারণ মানুষ চড়াও হন এবং তাদের লক্ষ্য করে নানা স্লোগান দেন। এমনকি কিছু এলাকায় কর্মীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে বিদ্যুৎকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্তিক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তবে এসব প্রতিকূল পরিস্থিতি ও জনরোষের মুখেও বসে নেই এ উপজেলার মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে এবং বিদ্যুৎ লাইন সচল রাখতে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সুধীজনদের সহযোগিতায় ঝুঁকি নিয়েই ত্রুটি সারা ও মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
গত (৬ আগস্ট) উপজেলার জামুর্কীস্থ জামুর্কী সাব স্টেশনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় লাইনম্যান আব্দুল লতিফ (৩২) গুরুতর আহত হয়। পরে আব্দুল লতিফকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মির্জাপুর থানায় মামলা করা হয়। এর আগে (১ জুলাই) সকালে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে গত (১ জুলাই) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের নেতারা বিক্ষোভ মিছিল ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে ।
এদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নিরসনে এবং বিদ্যুৎকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোখলেছুর রহমান বলেন, মির্জাপুর গ্রিডে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। যে কারণে লোডশেডিং করতে হয়। তিনি বলেন, গ্রাহকদের ক্ষোভ আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু কাজ না করলে তো বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও ব্যাহত হবে। জীবন ও নিরাপত্তার ভয় থাকলেও পেশাগত দায়িত্ব এবং জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আমরা মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি বলে তিনি জানিয়েছেন।






