সখীপুর প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া জামাল উদ্দিন (৫৫) আর নেই। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জামাল উদ্দিনের ভাতিজির জামাই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত (১ আগস্ট) রাতে অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে গাড়িতে করে সখীপুরের কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরদিন স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শাহ আলমের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি।
শাহ আলম বলেন, জামাল উদ্দিন মূলত কিডনির জটিল রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, জামাল উদ্দিন কালমেঘা ইউনিয়নে ফজর আলীর ছেলে। প্রায় ১৪ বছর আগে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটান। স্থানীয়দের দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগই তিনি স্ত্রী-সন্তানের জন্য ব্যয় করেছেন। প্রায় চার মাস আগে দেশে ফেরার পর পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে ছেলে আবু রায়হানের সঙ্গে গাজীপুরে থাকতেন তিনি। সেখানেই তাঁর কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে।
অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার পরিবর্তে তাঁকে গাড়িতে করে সখীপুরের পৈতৃক বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। বাড়ির সামনে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা জামাল উদ্দিনকে উদ্ধারের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সোমবার (১৭ আগস্ট) তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় তাঁর জানাজা শেষে ও দাফন করা হয়।