স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল পৌর শহরের আকুরটাকুর এলাকায় অবস্থিত ঢাকা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোমে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও তথ্য সংগ্রহে গিয়ে নারী সংবাদকর্মীসহ ৩ সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় সংবাদকর্মী সোহেল রানা টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় ঢাকা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মাদরাতুল কুরআন অ্যান্ড ব্রাইট ফিউচার স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের পর তার হাত ভেঙ্গে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ঢাকা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহের জন্য সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহেল রানা, তার সহকর্মী দৈনিক চৌকস পত্রিকার সদর প্রতিদিন শহিদুল ইসলাম টিটু ও দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি তানিয়া ইসলাম ঢাকা ক্লিনিকে যান।
সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, তথ্য সংগ্রহের সময় ঢাকা ক্লিনিকের ম্যানেজার সরোয়ার, মার্কেটিং কর্মকর্তা ওমর বাবু, সহকারী ম্যানেজার কৃষ্ণ ঘোষ এবং এক চিকিৎসকের সহকারী মশিউর রহমান তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাদের মারধর করে ক্লিনিকের ভেতরে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সহকারী ম্যানেজার কৃষ্ণ ঘোষের নির্দেশে ঢাকা ক্লিনিকের ম্যানেজার সরোয়ার নারী সংবাদকর্মী তানিয়া ইসলামের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং তাকে হেনস্তা করেন। এ সময় মার্কেটিং কর্মকর্তা ওমর বাবু ক্লিনিকের গেট বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদকর্মীদের উদ্ধার করেন।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তাদের তথ্য সংগ্রহে গেলে হত্যা করে লাশ গুম করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে সাংবাদিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীরা।
এমন অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোমের দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, টাঙ্গাইল শহরে অবিস্থত ঢাকা ক্লিনিকে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনার লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।