স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্যাসের চাপ না থাকায় গোড়াই শিল্পাঞ্চলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২০-২৫ দিন ধরে গ্যাস না থাকা ও তীব্র লোড শেডিংয়ের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন শিল্পের মালিকসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। একইভাবে বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। যানবাহন নিয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেও গ্যাস না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন যানবহানের মালিক ও পরিবহন শ্রমিকরা। পাশাপাশি গ্যাসের সংকটে বাসাবাড়িতে একইরকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংকট নিরসের কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় খোঁজ নিয়ে এবং টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাসের চাপ না থাকায় গ্যাস নিতে না পেরে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট-বড় মিলে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। পোষাক কারখানা, নিটিং এন্ড ডাইয়িং, সুতা উৎপাদনের কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য শিল্পকারখানার মধ্যে- নাহিদ কটন মিলস, কম্পিট কম্পোজিট নীট লি., নিউটেক্স গ্রুপ অব ইন্ডাসটিজ, খান গার্মেন্টস, সাইথ ইস্ট টেক্সটাইলস, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাসটিজ, শিরিন স্পিনিং মিলস, নাসির গ্রুপ অব ইন্ডাসটিস, বেঙ্গল এন কে এফ, শিরিন স্পিনিং মিলস, মন্ডল গ্রুপ অব ইন্ডাসটিজসহ অধিকাংশ কারখানায় গত ২০-২৫ দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া তীব্র লোডশেডিং ও উৎপাদন বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে শিল্পের মালিক পক্ষের। এসব মিলকারখানায় কয়েক লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারানোর সংকায় উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে বলে শ্রমিক কর্মচারীগন অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বৃহৎ ১০টি শিল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, গত ২০-২৫ দিন ধরে গ্যাস লাইনে গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। অপর দিকে তীব্র লোড শেডিং চলায় পড়েছেন মহাবিপাকে। বিষয়টি তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তারপরও গ্যাস নিয়মিত সঞ্চালনের কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। ফলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে কোটি কোটি টাকার লোকসান গুণতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে কয়েক লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মচারীর চাকরি হারানোর আশংকা রয়েছে।
অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক একটি গুরুত্বপূর্ন মহাসড়ক। উত্তরাঞ্চলের ২২টি জেলা ছাড়াও টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন রোডের হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে আসছে। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্র ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে ১৯-২০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত ২০-২৫ দিন ধরে এসব সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সিএনজি স্টেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাসাবাড়ি এবং গোড়াই শিল্পাঞ্চলেও একই অবস্থা দেখা দেয়। বিভিন্ন বাসায় গ্যাস না পেয়ে রান্না করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই দোকান পাট থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো পরিবার লাকড়ি দিয়ে রান্নার কাজ সেরে নিচ্ছেন। এদিকে মহাসড়কের মা সিএনজি ফিলিং স্টেশন, শিলা বৃষ্টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, নাটিয়াপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও বাঐখোলা হাই প্রেসার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, প্যাম্পে গ্যাসের চাপ না থাকায় শতশত যানবাহন গ্যাসের জন্য রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছেন।
সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার চন্দন সরকার, আবুল হোসেন ও নাছির উদ্দিন বলেন, গত ২০-২৫ দিন ধরে গ্যাসের লাইনে গ্যাসের চাপ নেই। যানবাহনগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকলেও তাদের গ্যাস দিতে পারছি না। যদিও মাঝে মধ্যে একটু পাওয়া যায় তারপরও ১০০/২০০ টাকার বেশী গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্টিভিউশন লি. এর ম্যানেজার প্রকৌশলী জুয়েল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মূল লাইনে গ্যাসের চাপ না থাকায় বিভিন্ন শিল্প এবং বাসাবাড়িতে লাইনে গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি তারা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কাজ চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।