
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে এখনও স্বস্তি নেই। চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম, মাছ ও মুরগি। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৫০ টাকা বা তার বেশি। মাছের বাজারেও কমেনি বাড়তি দামের চাপ। এর পাশাপাশি বেড়েছে আটা ও চিনির দাম। তবে কিছুটা কমেছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনী বাজার, সিটি বাজার ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে বাজারে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা। পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের মধ্যে ইলিশের দামও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে।
শুধু মাছ নয়, মুরগি ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দামের চাপ রয়েছে। বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম উঠেছে ডজনপ্রতি ১৫০ টাকা বা তার বেশি। অথচ এর আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। মাংসের বাজারেও নেই স্বস্তি। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে।
বাজারে আটার দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্যাকেটজাত দুই কেজির আটা ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিন-চার সপ্তাহ আগেও একই আটা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে খোলা আটার দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। আগে এর দাম ছিল ৪৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চিনির বাজারেও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাস খানেক আগে একই চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
নিত্যপণ্যের অন্য অনেক পণ্যের তুলনায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগে সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন বাজারে পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং করলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ও ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে।
এছাড়া কচুর লতি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে পেঁয়াজ ও আলুর দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।






