স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) সিপিএস বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের (সিপিএস ও মেকানিক্যাল বিভাগ) মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। ভিডিও প্রকাশের পরপর (১ সেপ্টেম্বর) ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এড়াতে প্রক্টর অফিসে পূর্ব লিখিত সমঝোতা হওয়ার পরও বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে পুণরায় সিপিএস এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার তিন দিন পার হলেও ক্যাম্পাসে এখনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে মারুফ (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ) নামের এক শিক্ষার্থী ভিডিও ধারণ করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই দিনই প্রক্টর কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। সিপিএস (ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স) বিভাগ, সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে উপস্থিত সবাই সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করে ঘটনাটির স্থায়ী নিষ্পত্তিতে একমত পোষণ করেন।
পূর্বের লিখিত চুক্তির পরও ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। সিপিএস বিভাগের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন- ওই ভিডিও অন্য আরেকটি পেজে পুণরায় ছড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে, আর সেটিকে কেন্দ্র করে তারা (সিপিএস বিভাগের শিক্ষার্থীরা) মারুফের ফোন পুণরায় কেড়ে নেয়। ফোনটি পুণরায় উদ্ধার নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিপিএস বিভাগের শিক্ষার্থী ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘাতমুখী অবস্থান নেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বাধা প্রদান করতে গেলে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে মুহূর্তের মধ্যেই ক্যাম্পাসে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।