স্টাফ রিপোর্টার ॥
কেউ এসেছেন কয়েক দশক পর, কেউ ফিরেছেন প্রিয় শিক্ষাঙ্গনের চেনা আঙিনায়। কারও চোখে পুরোনো দিনের স্মৃতি, কারও কণ্ঠে সহপাঠীদের হারানো সময়ের গল্প। বয়সের ব্যবধান ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যেন ফিরে গেলেন সেই সোনালি দিনগুলোতে। প্রাণের টানে স্মৃতির আঙিনায় মিলিত হলো সরকারি সা’দত কলেজের ইতিহাস পরিবারের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা। টাঙ্গাইলের সদর উপজেলায় সরকারি সা’দত কলেজের শতবর্ষ এবং ইতিহাস বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবারের (১৮ সেপ্টেম্বর) এ আয়োজনে ১৯৬৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় সহপাঠী, শিক্ষক ও শিক্ষাঙ্গনের মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে পুরো কলেজ প্রাঙ্গণ পরিণত হয় স্মৃতি ও আবেগের মিলনমেলায়।
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষার্থী ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. তাহমিনা খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন ইতিহাস বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্রফেসর নাসরিন বেগম এছাড়া আরও বক্তব্য দেন সরকারি সা’দত কলেজের উপাধ্যক্ষ সৈয়দ মোহাম্মদ শরীফ ইস্পাহানি, ইতিহাস বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. এস এম সুলায়মান কবীরসহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বের করা হয় আনন্দ র্যালি। র্যালিতে অংশ নিয়ে অনেকেই ফিরে যান তাঁদের ছাত্রজীবনের স্মৃতিতে। একসময় যে পথে ক্লাসে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা অবসরে হাঁটাহাঁটি করেছেন, সেই পরিচিত পথেই বহু বছর পর আবার একসঙ্গে হাঁটার অনুভূতি ছুঁয়ে যায় সবাইকে। পরে কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সেখানে উঠে আসে ইতিহাস বিভাগের দীর্ঘ পথচলা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক এবং শিক্ষা ও সমাজে বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদানের নানা স্মৃতি। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে, আবার পুরোনো দিনের কোনো ঘটনা মনে পড়তেই হাসিতে ভরে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে হওয়া এই মিলনমেলায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একে অপরকে কাছে পেয়ে যেন হারিয়ে যাওয়া সময়কে আবারও ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ খুঁজে নেন পুরোনো বন্ধুকে, কেউ স্মৃতির পাতায় ফিরে গিয়ে প্রিয় শিক্ষকের কথা স্মরণ করেন। সময়ের স্রোতে জীবনের নানা ব্যস্ততা ও দূরত্ব তৈরি হলেও ইতিহাস পরিবারের বন্ধন যে আজও অটুট, তা ফুটে ওঠে পুরো আয়োজনজুড়ে।
বিকেলে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন ব্যান্ড শিল্পীর গানে গানে মুখর হয়ে ওঠে কলেজ প্রাঙ্গণ। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বয়স যেন সেখানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি- গানের তালে তালে সবাই ফিরে যান তারুণ্যের সেই উচ্ছল সময়ে। সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় র্যাফেল ড্র। আনন্দ, হাসি, স্মৃতিচারণ ও ভালোবাসায় ভরা দিনটির সমাপ্তি ঘটে। তবে শেষ হলেও যেন শেষ হয়নি মিলনের গল্প। কারণ সরকারি সা’দত কলেজের ইতিহাস পরিবারের কাছে এই পুনর্মিলনী শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি পুরোনো দিনের কাছে ফিরে যাওয়া, প্রিয় মানুষদের আবার কাছে পাওয়া এবং স্মৃতির আঙিনায় নতুন করে বন্ধন গড়ে তোলার এক আবেগঘন উপলক্ষ।