স্টাফ রিপোর্টার ॥
অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি যেন ‘স্থায়ী সংস্কৃতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠকছেন সাধারণ ভোক্তারা। দ্রব্যমূল্যের বেসামাল অবস্থার মধ্যেই সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের দামেও। সবপণ্যের রীতিমতো দাম বেড়েই চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজনীয় পণ্য ডাল, তেল, আটা, ময়দা, চাল ও চিনিসহ সব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। এই চাহিদাকে পুঁজি করে অসাধু ক্ষুদ্র ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে নিজেদের লোভ-লালসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অহেতুক বাড়িয়ে তোলেন প্রায় সব পণ্যের দাম। যার প্রভাবে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে।
টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় অবস্থিত পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, সিটি বাজারসহ বিভিন্ন বাজার সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম ও মুরগির দামে বিপরীত চিত্র। ফার্মের লাল ডিমের দাম ডজনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে ৫ টাকা। বাজারে এক সপ্তাহ আগে ফার্মের লাল ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা দরে। বর্তমানে একই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ থেকে ১০ টাকা।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। খামার ও পাইকারি পর্যায় থেকে বেশি দামে ডিম কিনতে হওয়ায় পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে খুচরা পর্যায়েও দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, কয়েক দিন ধরে পাইকারি বাজারে ডিমের দামে বাড়তি চাপ রয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সামনে দাম কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। ডিমের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ব্রয়লার মুরগির বাজারে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন বাজারে দাম নেমে হয়েছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম।
বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে। তবে সরবরাহের পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে বাজারে লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, ব্রয়লার তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় অনেক ক্রেতাই এখন এই মুরগির দিকে ঝুঁকছেন। তবে লেয়ার ও সোনালী মুরগির দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও ডিমের দাম বাড়ায় সেই সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকা ডিমের দাম বাড়লে মাসিক বাজার খরচে তার প্রভাব পড়ে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিম ও মুরগির দামের ওঠানামার পেছনে উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহ, চাহিদা, পোলট্রি খাদ্যের দাম ও পরিবহন খরচসহ একাধিক বিষয় কাজ করে। তাই একই সময়ে একটি পণ্যের দাম বাড়া এবং অন্যটির দাম কমা অস্বাভাবিক নয়। তাদের ধারণা, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ডিমের বাজারেও চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে দাম স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন ক্রেতারা।