
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বাদল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক দাবিদার তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন। একই ঘটনায় তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগে মির্জাপুর থানায়ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি ও থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া মৌজায় আরএস ৮১৩ ও ৮১৪ নম্বর দাগে মোট ১২ শতাংশ জমি রয়েছে। বাদী তোফাজ্জল হোসেনের দাবি, জমিটি তার মায়ের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
আদালতে অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আজগানা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বাদল মিয়া (৫০), তার দুই ভাই রিপন মিয়া (৪৫) ও শিপন মিয়া (৪০) এবং ছেলে রাকিব হোসেন (২৪) ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার পর বিবাদীরা তাদের মারধর ও হুমকি দিতে থাকেন বলেও অভিযোগ করেন তোফাজ্জল। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের (১৯ জুন) সকালে অভিযুক্তরা বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে চারপাশে বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তোফাজ্জাল হোসেনের ছেলে আবু কাউসার তাদের বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
কুড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ডালিমন বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগ করছে তোফাজ্জল। জমিটিতে বেড়া দেয়াতে চলাচল করতে আমাদেরও অসুবিধা হচ্ছে। কুড়িপাড়া ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার গোলাম মোস্তফা বলেন, তোফাজ্জল জমিটি শুরু থেকেই দখলে আছেন। হঠাৎ করেই বিবাধীরা জমিটি দখল দেওয়ার চেষ্টা করছে। এদিকে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালত নোটিশ জারি করেছেন। নোটিশে বিরোধপূর্ণ জমিতে যার যার দখলাবস্থা বজায় রেখে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ১২ শতাংশ জমিটি তারা যুগ যুগ ধরে ভোগদখল করে আসছেন। বিগত ১৯৬২ সালে তার মায়ের নামে ওয়ারিশসূত্রে এসএ রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে বিএস রেকর্ডেও জমিটি তাদের নামে চূড়ান্তভাবে প্রচারিত হয়েছে। তারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। সম্প্রতি যুবদল নেতা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আজগানা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বাদল মিয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই জমি দলিলমূলে তার দাদার সম্পত্তি। তার বাবা ওই সম্পত্তির ওয়ারিশ। পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারের জন্যই তারা জমিতে বেড়া দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে বাদল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






