স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার এক মাদ্রারাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই মাদ্রারাসা শিক্ষক হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঘাটাইল উপজেলার পূর্ব লোকেরপাড়া এলাকার মারকাযুল কোরআন রিজিয়া ফজলুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রারাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটির বাড়ি উপজেলার যোগীহাটি গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ও শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদ্রারাসার শিক্ষক হানিফ মিয়া ওই শিক্ষার্থী শিশুটিকে ডেকে অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে তাকে দিয়ে শরীর ম্যাসাজ করানো হয়। পরে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে নিষেধ করা হয়। কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রারাসায় গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
মাদ্রারাসা শিক্ষার্থী শিশুটির মা বলেন, ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদ্রারাসায় পাঠিয়েছিলাম। সেখানে যে শিক্ষক আমার ছেলের সঙ্গে এমন নোংরা কাজ করেছে, আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এমন শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো মায়ের শিশুর সঙ্গে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মাদ্রারাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। শিশুটির চাচা লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ওই মাদ্রারাসা শিক্ষক হানিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি কার্যক্রম করা হবে।