স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনা করে দুদকের একটি টিম। এ সময় বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ হাসপাতালের টয়লেট ও পরিত্যক্ত ভবনে সংরক্ষণ করা অবস্থায় দেখা যায়। দুদক টাঙ্গাইলের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় হাসপাতালের ওষুধ সংরক্ষণ, মজুত ও বিতরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করা হয়। অভিযানে নানা অনিয়ম এবং মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সম্মিলিতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
এর আগে, গত (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিকআপ ভর্তি করে সরকারি ওষুধ ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলার সময় জনতার হাতে আটক হয়। পরে চালককে আটক করে পিকআপসহ ওষুধ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন দিবাগত রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল বাদি হয়ে মামলা করেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল দুদকের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন, শুরুতেই আমরা ব্যাপক গাফিলতি, তদন্তের নামে দায়সারা কার্যক্রম, নানা অনিয়ম, মামলার আলামত নষ্ট এবং মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ঘটনাটি পরিকল্পিত ও সম্মিলিতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছি। এখানে অনেক পক্ষের জড়িত থাকার বিষয় অনুমান করা যাচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওষুধের বস্তার সঙ্গে থানার জব্দকৃত বস্তার ব্যাপক গরমিল রয়েছে।থানায় খুবই অল্প পরিমাণ জব্দ করা বস্তা দেখানো হয়েছে।
এতো বড় একটি ঘটনা ঘটার পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো বিপুল পরিমাণ ওষুধ হাসপাতালের টয়লেট ও পরিত্যক্ত ভবনে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। এই সংরক্ষণ করা ওষুধের কত দিন মেয়াদ আছে বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে কিনা এবং কি কি ধরনের ওষুধ রয়েছে। তার কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। এতে চরম গাফিলতির চিত্র ফুটে উঠেছে।