মোমিনুল হক॥
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, ইলিশ বাংলাদেশের গর্ব। পৃথিবীতে যে পরিমাণ ইলিশ উৎপাদন হয়, তার প্রায় ৭০ ভাগ বাংলাদেশে উৎপাদন করে। মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে দেশে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে। তাই ইলিশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মা ইলিশ সংরক্ষণের এই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। বর্তমানে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতার পরিমাণ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। গত বছর কেউ সহযোগিতা পেয়েছেন, কেউ পাননি। তবে এবার সবাই সহযোগিতা পাবেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া স্কুল মাঠে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির আয়োজনে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান’ উপলক্ষে সচেতনতা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, মা-বোনদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ নিয়ে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। কোনো নেতা আপনাদের কার্ড করে দেবেন এমনটি নয়। সরকারিভাবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সারাদেশে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারাই তথ্য সংগ্রহ করবেন। কেউ বাদ পড়লে বিষয়টি জানাতে হবে। কেউ যদি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা-পয়সা চায়, ভুলেও দেবেন না। দলের কেউ এ ধরনের কাজ করলে আমাদের জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব। কোনো অন্যায় করতে দেওয়া হবে না।
মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ নেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই সমাজে কেউ নেশা করবে বা বিক্রি করবে- এটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অতি দ্রুত এই চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্প পাস হয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য পর্যটনকেন্দ্র করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে। চরের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি ভালো হাসপাতাল নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চরের মানুষের জন্য একটি ভালো হাসপাতাল করা হবে। যাতে চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে না হয়। এখানেই যেন তারা চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সেলিম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক (চ.দা.) আহসান হাসিব খান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সালমুন হাসান বিপ্লব, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাহেল আহমেদ প্রমুখ।
এ সময় কাকুয়া ইউনিয়নের ২৪৯ জেলে পরিবারের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ওমরপুর ব্রিজ সংলগ্ন নদীতে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করেন