আদালত সংবাদদাতা ॥
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিকদল নেতা ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোকলেস মিয়া ও ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তারা মুক্তি লাভ করেন। এ সময় কারাগারের বাইরে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীরা ফুলের মালা ও ফুল দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ তত্ত্বাবধায়ক (জেলার) ফখর উদ্দিন। তিনি জানান, জামিনের কাগজপত্র যাচাই শেষে বিকেল ৫টার দিকে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম কারামুক্ত হয়েছেন।
এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাদের আইনজীবী সোহেল খান নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুইজনের জামিন মঞ্জুর করেন। এর একদিন আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
জানা যায়, বিগত ২০১৭ সালের (২২ জুন) বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় বিগত ২০২৩ সালের (২৮ ডিসেম্বর) মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামলার অন্যান্য ধারায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।
পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলাম ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি আপিল করেন। আপিলে নিম্ন আদালতের রায় ও সাজা বাতিল করে খালাস এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিনের আবেদন করা হয়। কারামুক্তির পর কারাগারের বাইরে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা মোকলেস মিয়া ও জাহিদুল ইসলামকে ফুলের মালা পরিয়ে এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।