স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় হঠাৎ আঘাত হানা ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের কলা বাগান। কয়েক মিনিটের ঝড়েই শোলাকুড়ী ও অরণখোলা, ফুলবাগচালা ইউনিয়নের অন্তত ৭ থেকে ৮টি গ্রামের হাজার হাজার কলাগাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে পেঁপে, বাগানের কলাসহ নানা রকম সবজির বাগান। ফসল ও গাছ ভেঙে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ বয়ে যাওয়া ঝড়ে জয়নাগাছা, বেদুরিয়া, সাধুপাড়া, সাইনামারী, ফেকামারী, হরিণধরা, উপজেলা সীমানা এলাকা কামারিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কলাবাগান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পেঁপেসহ অন্যান্য ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জয়নাগাছা গ্রামের কৃষক কাজল চিসিম বলেন, কলাগাছের মাজা ভাঙেনি, ভেঙে গেছে কৃষকের মাজা। তিনি জানান, তাঁর নিজের কলাবাগানও ঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশপাশের আরও অনেক কৃষকের কলাগাছ ভেঙে পড়েছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে বিনিয়োগ করেছি। অনেক দিন ধরে পরিচর্যা করেছি। ফসল বিক্রি করে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, সেটাই বুঝতে পারছি না।
অরণখোলা ইউনিয়নের আমলীতলা এলাকার কৃষক আজিজুল মিয়া প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে ৫০০টি কলাগাছ চাষ করেছেন। এ চাষে তিনি একটি এনজিও থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। ঝড়ে তার বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষক সাইফুল ইসলাম প্রায় ২৮ বিঘা জমিতে পাঁচ হাজার কলাগাছ চাষ করেছেন। ঝড়ে তার বাগানের সব কলাগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, ঝড়ের আগেই বাগানের কলা বিক্রির জন্য চুক্তি হয়েছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ক্রেতা জালাল উদ্দীনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতি কাঁদি ৪১০ টাকা দরে কলা বিক্রির কথা ছিল। মোতালেবের প্রায় দুই একর জমির পেঁপে ও কলাবাগানও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বড় কৃষক আনিছুর রহমান হীরা বলেন, দুপুর ১২টা ১০-১৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। কয়েক মিনিটের ঝড়েই চোখের সামনে একের পর ়এক কলাগাছ ভেঙে পড়তে দেখি। প্রায় ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রচণ্ড বজ্রপাতও হয়। তিনি আরও জানান, ওই বজ্রপাতে তাঁর এক শ্রমিকের আত্মীয় মধুপুর-মুক্তাগাছা সীমান্তবর্তী কামারিয়া গ্রামের আফেজ মণ্ডলের ছেলে মজিবর রহমান (৩০) মারা গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মধুপুরের বিপ্রবাড়ী এলাকার মনিরের প্রায় এক হাজার কলাগাছ কলাসহ মাটিতে পড়ে গেছে। সাধুপাড়া গ্রামের বিন্দু রেমা, ইউনুস মৃ, বর্ণিল দফো ও সারমিন রিছিলের কয়েক বিঘা জমির চম্পা কলার বাগানও ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কলাচাষে শ্রম, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যায় দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের পর ফলন পেতে শুরু করেছেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের ঝড়েই সেই স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরের ঝড়ে অরণখোলা, ফুলবাগচালা ও শোলাকুড়ী ইউনিয়নের প্রায় ৮৭ হেক্টর জমির কলাবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চম্পা কলার বাগানের ক্ষতি বেশি হয়েছে। এছাড়া পেঁপেসহ অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সরেজমিনে না গিয়ে টাকার অঙ্কে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে।