স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে ঠিকাদার ও সদর উপজেলার গালা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সুরমান রেজা (৪০) হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুলিশ। সেই সাথে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এনায়েতপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে ঠিকাদারি কাজের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন সুরমান রেজা। ওই দিনই দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পেট্রোল পাম্পে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত সুরমান রেজার বাবা আবু হানিফ বাদী হয়ে গত (২১ সেপ্টেম্বর) সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি গালা ইউনিয়নের ভাটচান্দা গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।
ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আদিবুল ইসলাম ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ. এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে তদন্তে নামে পুলিশ। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে ডিবি (উত্তর)-এর ওসি এ. বি. এম. এস. দোহার সমন্বয়ে একটি টিম তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ডিএমপি ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন (৬৩) নামে একজনকে এবং টাঙ্গাইল সদরের আদি টাঙ্গাইল এলাকা থেকে বাবলু মিয়া (৪২) ও সাদ্দাম ও সীদাম সূত্রধর ও আর জে তমালকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানা এলাকা থেকে আল আমিন খান (৩২) নামে অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুইটি মোটরসাইকেল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাবলু মিয়া ও সাদ্দাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।