স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বন বিড়াল ও বাঘডাসার আক্রমনে শিশুরা একা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশকয়েকজন শিশু বন্য পশুর আক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বলছে- এটি বন বিড়াল। আবার কেউ বলছে- মেছো বাঘ বা বাঘডাস।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের মাঝিরা, আড়ালিয়া, বেলুটিয়া, আমিল, বেতবাড়ী, গোপদ, পদ্মপুর গ্রামে এ বন্য পশুর উপদ্রব বেশি। মাঝিরা গ্রামের স্কুল শিক্ষক আজম আলী রাজু পশুটির বিবরণ দিয়ে বলেন, এর মুখাকৃতি অনেকটা কুকুরের মতো। আকার বেশ বড় এবং দ্রুতগামী। গায়ে কালো ডোরা কাটা দাগ রয়েছে। তার ধারনা এটি বাঘডাস বা বাঘালিয়া। তবে মেছো বাঘও হতে পারে। এ হিংস্র পশুর কামড়ে গত কয়েক দিনে গ্রামের নারী, শিশুসহ ১১ জন আহত হয়েছে। এক ডজন গরু-ছাগলকে কামড়িয়ে আহত করেছে। সবাইকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। পশুটি এতোটাই খ্যাপাটে যে গ্রামের মেঠো পথে কাউকে একা পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়া-আসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায়ও গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে চলাচল করছেন।
মাঝিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক আকলিমা খাতুন জানান, আশপাশের ছয় গ্রামের অনেক মানুষ অজ্ঞাত পশুর কামড়ে আহত হওয়ায় ভীতির সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন ধরে শিশুরা লাঠি হাতে অথবা অভিভাবকদের পাহারায় স্কুলে যাওয়া-আসা করছেন। মহাদাস গ্রামের স্কুল শিক্ষক হারুন-অর-রশীদ জানান, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে তার পাঁচ বছরের এক বাচ্চাকে অজ্ঞাত পশু কামড়িয়ে আহত করে। বাচ্চাটাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা এবং জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেয়া হয়। স্কুল শিক্ষিকা মাহবুবা শিউলি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, আমিল, বেতবাড়ী ও বেলুটিয়া গ্রামের অনেক মানুষকে বাঘডাস বা অজ্ঞাত হিংস্র পশু কামড়িয়েছে। ভয়ে শিশুরা এখন একা স্কুলে আসতে পারছে না।
কলেজ শিক্ষক রহমত তালুকদার বলেন, আড়ালিয়া গ্রামে শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে বন বিড়ালে কামড়ায়। পরে গ্রামবাসিরা জঙ্গল ঘেরাও দিয়ে একটি বন বিড়াল মেরে ফেলে। অনেকেই শিয়াল, বাঘডাস বা বন বিড়াল মেরে ফেলছে। মধুপুর বনাঞ্চলের সাবেক ফরেষ্ট রেঞ্জার আতাউর রহমান জানান, মধুপুর বনে এখনো বনবিড়াল, মেছো বাঘ, বাঘালি ও বাঘডাস দেখা যায়। খাদ্যের অভাবে এরা বন থেকে বেরিয়ে আশপাশের জনপদে সাময়িক আশ্রয় নেয়। এরা সাধারণত হাঁস-মুরগি, ছাগল, বাছুর গরু, ছোটখাটো পশু বা মাছ খেয়ে থাকে। কেউ চলাচলে বা খাবারে বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষকে কামড়ায়। তবে কোনভাবেই এদের হত্যা করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান জানান, মধুপুর বনজঙ্গল সমৃদ্ধ এলাকা। এখানে কুকুরসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণীর হামলায় প্রায়ই মানুষ আহত হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা পশুর কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে মনে হয়। কারণ প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিচ্ছেন।