
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
‘মো: নাঈমুর রহমান নাইম আপনি আমাকে বাঁচতে দিলেন না। নাঈমুরের পরকীয়া সব ছবি তার x hiya আমাকে ১৭-০৯-২০২৬ তারিখ আর বলে ১ বছরের সংসার কিন্তু কোন কাবিন ছিল না। নাঈমুর টাঙ্গাইল পুলিশের job করতো hiya কুমুদিনীতে পড়তো। ব্যাচেলর রুমে তারা husband Wife পরিচয় দিতো। আমার মৃত্যুর বিনিময়ে নাঈমুর আর hiya ফাঁসি চাই। কেউ আমার মা বাবাকে কষ্ট দিবেন না। আমার সম্পদ গহণা ভাই তুমি নিবা। ভাবি আমার মা বাবাকে দ্খো রাখবেন। পরিবারের সম্মান বাচাইতে গিয়ে আজকে কপালে নাঈমুরের মত অমানুষকে কাবিন করি’।
চার পাতার লেখা এই চিরকুটে উল্লেখিত লেখা ছাড়াও তাদের দাম্পত্য কলহের অনেক কিছুই লেখে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ ও ঘাষের বিষ পানে এই গৃহবধু পারভীন আক্তার আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় স্বামী নাইমকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ছলিমনগর গ্রামের শাহীন সিকদারের মেয়ে পারভীন আক্তারের পার্শ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দরা গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের কনস্টেবল নাইমুল ইসলাম নাইমের সাথে গত (১৪ সেপ্টেম্বর) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের আগে থেকেই পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন নাইম। বিষয়টি পারভীন জানতে পেরে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। এ ঘটনা এড়িয়ে যেতে নাইম পারভীনকে বিভিন্নভাবে তালবাহনা দিতে থাকে। এক পর্যায় পারভীনকে তালাকের জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) পারভীন অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ ও ঘাষের বিষ পান করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে পারভীন আক্তারের লেখা চারপাতার একটি চিরকুটে আরও লেখেন ‘আমার পরিবারের কোনো ভুল নাই, আমার পরিবার আমাকে অনেক সুখ দিছে। বড়লোকের মেয়ে আমি, কিন্তু অনেক সাধারণ-সুন্দরভাবে দিন কাটাইছি। আমার ফুলের মতো জীবন শেষ করল নাইম।’
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল বলেন, কনস্টেবল নাঈমুর রহমান নাইম টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সাপারের বডিগার্ড হিসেবে কর্মরত। তাকে মামলায় আসামী করা হয়েছে।
সলিমনগর গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, গৃহবধু পারভীন আক্তারকে তার স্বামী নাইম মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং প্রভাব খাটিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চিরকুট এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক দাবি জানান।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর মা মালেকা বেগম বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মির্জাপুর থানায় অভিযুক্ত নাইমসহ তিনজনের নমে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহবুব রেজুয়ান বলেন, নাঈমুর রহমান নাইম গত (২ অক্টোবর) পর্যন্ত বডিগার্ডের দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের সদস্য হলেও তাকে কোন ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।






