স্টাফ রিপোর্টার, নাগরপুর ॥
এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটেছিল ঘোড়ায় চড়ে। যা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও অশুভ শক্তির ইঙ্গিত দেয় বলে ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন। অন্যদিকে, দেবী বিদায় নেন নৌকায় চড়ে। যা শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এ বছর দেবী দুর্গার ভক্তরা বিশেষ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে দেবীকে বিদায় জানান এবং পৃথিবীর সকল অশুভ শক্তি ধ্বংস হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কামনা করেন। ঢাক-ঢোলের শব্দ ও শঙ্খধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নাগরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কালী বাড়ির সভাপতি রমেন্দ্র নারায়ন শীল। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আওয়াল লাভলু।

নাগরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শিব শঙ্কর সূত্রধর ও সদস্য সচিব ঝুটন কুমার সাহার সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বণিক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন, নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম, নাগরপুর মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোয়ারা বেগম মুকুল।
নাগরপুর কেন্দ্রীয় কালী বাড়ির সহ-সভাপতি নীতিশ চন্দ্র ঘোষ, অরুণ কুমার সাহা, নাগরপুর সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ রামেন্দ্র সুন্দর বোস, বীর মুক্তিযোদ্ধা নীরেন্দ্র কুমার পোদ্দার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রভাষ চক্রবর্তী।
নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হবি, সিনিয়র সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলী রানা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ খান, নাগরপুর উপজেলা যুবদল ভারপ্রপ্ত আহবায়ক নাজমুল হক স্বাধীন, নাগরপুর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম নবা, নাগরপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জিহাদ হোসেন ডিপটি, কৃষক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মীর খালিদ মাহবুব রাসেল।
সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই আনন্দঘন উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।