স্টাফ রিপোর্টার ॥
দূর্গাপূজা শেষে টাঙ্গাইলের নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে এবার চালের দামও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজিতে চালের দাম বেড়েছে এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত। এতে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপে থাকা দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। গত দুই দিনে টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্ক বাজার, ছয় আনি বাজার, সিটি বাজার, সন্তোষ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চালের দাম ১ থেকে দেড় টাকা বেড়েছে।
গৃহিনী মমতাজ বেগম বলেন, কেজিতে এক থেকে দুই টাকা দাম বাড়াকে খুব বেশি মনে না হলেও আমাদের ভয় হচ্ছে, সামনে দাম আরও বাড়বে। এমনিতেই প্রতিদিনের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। খাবারের দাম বাড়ালে সবকিছুইতে টানাটানি পড়ে যায়। নিত্যপণ্যের দাম, এলপিজি ও বিদ্যুতের বিল বাড়ায় মমতাজের আয় কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে ঋণ। তিনি আরও বলেন, চালের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে খাওয়া বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কেজিতে এক টাকা দাম বাড়ায় মাসে আমার খরচই বেড়েছে ৩৬০ টাকা।
বাজারে রাইস এজেন্সির মালিক কামাল হোসেন বলেন, নাজির শাইল ছাড়া সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকার পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর প্রভাবে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি চালের দাম ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা বেড়েছে। এ সময়ে সাধারণত চালের দাম বাড়ে। গুদামে রাখা চাল পুরোনো হয়ে যায়, আর নতুন চাল বাজারে আসতে সময় লাগে। নতুন চাল বাজারে আসতে আরও অন্তত দুই মাস সময় লাগবে।
বাজারের অপর রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন দাম স্থিতিশীল থাকার পর পরিবহন খরচ বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। তবে দেশের কোনো জেলায় চালের ঘাটতি নেই। শহরের কলেজ পাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি চাকুরিজীবী জাহিদুর রহমানের (৫৫) পরিবারে ছয়জন সদস্য। এর মধ্যে চারজনই সন্তান। তিনি বলেন, তার আয় দিয়ে এখন আর পরিবারের খরচ চালানো যাচ্ছে না। বাজারে যে টাকা নিয়ে যাই, তা দিয়ে প্রয়োজনীয় সবকিছু কেনা যায় না। খরচ সামলাতে তালিকা থেকে কিছু পণ্য বাদ দিতে হয়, নয়তো পরিমাণ কমিয়ে কিনতে হয়।
বাসার কাছে বাজার থাকলেও অন্তত ১০০ টাকা সাশ্রয়ের আশায় প্রায় এক হাজার ২০০ টাকার কেনাকাটা করতে তিনি পার্ক বাজারে যান। তার পরিবারে মাসে অন্তত ৬৫ কেজি চাল লাগে। ফলে কেজিতে এক টাকা দাম বাড়লেও মাসে খরচ বাড়ে ৬৫ টাকা। স্টেশনারি ব্যবসায়ী মুসলিম উদ্দিন বলেন, প্যাকেটজাত ও তরল দুধের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিও পরিবারের খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।