
স্টাফ রিপোর্টার ॥
এবার টাঙ্গাইল জেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোন পরীক্ষার্থী পাস করেনি। এরমধ্যে জেলার ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাত্র ১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ৭ জন শিক্ষকের এই প্রতিষ্ঠানের সেই একজন শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন।
টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো-গোপালপুর উপজেলার খন্দকার আসাদুজ্জামান একাডেমি, শিমলা পাবলিক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সখীপুর উপজেলার সূর্য তরুণ শিক্ষাঙ্গন আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নাগরপুর উপজেলার ইসলামাবাদ দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসা।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গোপালপুর উপজেলার খন্দকার আসাদুজ্জামান একাডেমি থেকে ৭ জন, শিমলা পাবলিক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন, গোপালপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন, সখীপুর উপজেলার সূর্য তরুণ শিক্ষাঙ্গন আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪ জন, ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১ জন এবং নাগরপুর উপজেলার ইসলামাবাদ দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসা থেকে ৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের কেউই পাস করতে পারেন নি।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল জেলায় এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫০ দশমিক ৩২ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৬৬ জন। মোট ২৯ হাজার ৮৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৫ হাজার ১৬ জন। এরমধ্যে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, আলিমে ৫৬ দশমিক ২৯ শতাংশ, এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং এইচএসসি (ভোক) পরীক্ষায় ৪৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
টাঙ্গাইল মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান মিয়া বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অবহেলার জন্য এ ফলাফল হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়ার দায় শিক্ষকেরা এড়াতে পারেন না। পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং সরকারের তদারকি বাড়াতে হবে।
ভূঞাপুরের অলোয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এসএম শামসুর রহমান বলেন, মাত্র ১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো সেও ফেল করেছে। অনলাইনে ভর্তির কারণে এখানে ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হতে চায় না। আমাদের স্কুল থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরাও অন্যত্র চলে যায়। পাশাপাশি আমাদের কলেজ সেকশনটি এমপিও ভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষকরা ভেঙে পড়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তাদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





