
এরশাদ মিয়া, নাগরপুর ॥
স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়মে আখড়ায় পরিণত হয়েছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। রোগীদের খাদ্য ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এমএসআর সামগ্রী, রোগীদের পথ্য, ময়লা কাপড় চোপড় ধোলাই ও কম্পিউটার সামগ্রী, কম্পিউটার ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য মনোহারী, আসবাবপত্র সামগ্রী সেবা ক্রয় সংক্রান্ত টেন্ডারে চরম অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অভিযোগ উঠেছে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীরের বিরুদ্ধে।
সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষ জনগণের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র অবলম্বন নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্সটি বর্তমানে দুর্নীতি গ্রস্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অসময়ে সাধারণ রোগী হাসপাতালে নিয়ে গেলে অপারগতা প্রকাশ করে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে রোগীদের নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভিতরে বেআইনিভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে একাধিক পরিবার বসবাস করছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাদল শেখ নামের এক ব্যক্তি জানান, হাসাপাতালের বিভিন্ন স্থানে নোংড়া আবর্জনায় ভরা। এদিকে কারো কোন নজর নেই। নামেই শুধু সরকারী হাসাপাতাল। এখানে মানসম্মত চিকিৎসার কোন বালাই নেই। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ বেশির ভাগ চিকিৎসক ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে ব্যস্ত থাকেন।
অভিযোগে আরোও জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থ বৎসরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র সমূহের জন্য স্থানীয়ভাবে এমএসআর সামগ্রী, রোগীদের পথ্য, ময়লা কাপড় চোপড় ধোলাই ও কম্পিউটার সামগ্রী, কম্পিউটার ও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য মনোহারী, আসবাবপত্র সামগ্রী/সেবা ক্রয় বা সংগ্রহ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর। সেই কমিটিতে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল কাদির সভাপতি, জুনিয়র কনসালটেন্ট সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু) ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মূতীকে সদস্য ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফরহাদ আলীকে সদস্য সচিব করে গত (২৩ সেপ্টেম্বর) টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
তার ইচ্ছে মতো কমিটি গঠন করে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য দরপত্র আহবান করেন। পরবর্তিতে বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক গত (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা হইতে (৪ অক্টোম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়েব সাইডের অনলাইনে দরপত্র ক্রয় ও জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়। পরদিন গত (৫ অক্টোম্বর) বিকেল ১টায় দরপত্র ওপেন করার সময় দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ৬টি গ্রুপের মধ্যে মেসার্স সাইফুল টেডার্স ৩টি, মেসার্স সরকার এন্টার প্রাইজ ২টি ও মেসার্স লাকি টেডার্স ১টি গ্রুপকে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ পাঠান নির্বাচন ও স্পেসিফিকেশন কমিটি। সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৬টি গ্রুপের মালামাল ক্রয়ে ওই ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
দরপত্রে অংশগ্রহণে ব্যর্থ ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠান মোস্তফা এন্টারপ্রাইজের স্বতাধিকারী গোলাম মওলা মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, অন্য কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রে যেন অংশগ্রহণ করতে না পারে এজন্য তার ইচ্ছেমতো শর্ত জুড়ে দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। শর্ত দিয়েও ক্ষ্যান্ত হননি ওই কর্মকর্তা। তিনি তার পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়েব সাইডের সার্ভার ডাউন করে রাখেন। ফলে অন্য কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল কাদির বলেন, বিধিমালা মোতাবেক সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির সুযোগ নেই। হাসাপাতালে স্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম বসবাস করেন। কিছু দিনের মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হবে।





