
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের ২৩নং বাইমহাটী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৪নং মহেড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছে দুই বিদ্যালয়ের ৮০০ শতাধিক কোমলমতি ক্ষুদে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘ দিন ধরে দুইটি বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা থাকায় পাঠদানে মারাত্বক সমস্যা হচ্ছে বলে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষার গুনগতমান উন্নয়নসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ভাল করলেও এই দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তেমন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। বিদ্যালয় দুটিতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যার চিত্র।
জানা গেছে, উপজেলা সদরে অবস্থিত বিগত ১৯৭৩ সালে ২৩নং বাইমহাটী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টির ১০০ গজের মধ্যে রয়েছে সরকারী অধিদপ্তরের সকল অফিস। প্রাথমিক শিক্ষার গনগত পরিবর্তন, শিশুদের ঝড়ে পড়ারোধ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় জাতীয় পর্যায়ে বিগত ২০১৮ সালে এবং ২০১৯ সালে রাষ্ট্রপতির পুরষ্কার লাভ করে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫ শতাধিক।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা জানান, এখন প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। বিদ্যালয়টি রাস্তা ও চারপাশে নিচু হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা দুরীকরণের জন্য সচিব, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, জাতীয় পর্যায়ে পুরষ্কার প্রাপ্ত বিদ্যালয়টির এখন প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।
একই অবস্থা ১নং মহেড়া ইউনিয়নের ১৪নং মহেড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পাঠদানে মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয় সুত্র জানায়, এখানে শিক্ষার্থী হয়েছে ৩০৬ জন। শিক্ষক, অভিভাবক ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে পিটিসি, রাস্তা ও চারপাশের আবাসিক বাড়ি ঘরের পানিও বিদ্যালয়ের মাঠে প্রবেশ করে। ফলে অধিকাংশ সময় থাকে জলাবদ্ধতা। শিশুরা জলাবদ্ধতার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আঞ্জুমানয়ারা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা দীর্ঘ দিনের। বিষয়টি তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তারপরও কোন কাজ হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ২৩নং বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৪নং মহেড়া সরকারী বিদ্যালয় দুটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিদ্যালয় দুটির জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য বরাদ্ধ চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে অল্প দিনের মধ্যে কাজ করা সম্ভব হবে।






