
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় পাঁচশ’ একর আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে রয়েছে। উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের রশিদ দেওহাটা বিলে (নাইলাবিল) তিন ফসলি এই জমি প্রায় দেড়যুগ ধরে অনাবাদি থাকায় কৃষক তাদের জমিতে ফসল ফলাতে পারছেন না বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। এদিকে কৃষক ফসল ফলাতে না পারায় একদিকে পরিবারে আসছে না খাদ্যের যোগান। অন্যদিকে জমি থেকে ফসল না আসায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে এই এলাকার সাধারণ কৃষক। কৃত্রিম তৈরি এই জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আশুপদক্ষেপ নিতে আর্জি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকগণ।
রশিদ দেওহাটা নাইলা বিলে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত একর আবাদি জমি বর্ষার পানির নিচে ডুবে আছে। কুচুরিপানার স্তূপে বুঝাই যাচ্ছে না এই বিলে রয়েছে কৃষকের তিন ফসলি জমি। তিনমাস পূর্বে বর্ষার পানি নেমে গেলেও রশিদ দেওহাটা নাইলা বিলের পানি মোটেও নামেনি। এখনো বর্ষার পানিতে ডুবে আছে কৃষকের আবাদি জমি। রশিদ দেওহাটা গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, নাইলা বিলের জমি আমাদের সোনাফলা জমি। প্রতি বছর সরিষা বোরো ও আমনের আবাদ করে ফসল ঘরে তুলতাম। দেড়যুগ যাবত জলাবদ্ধতার কারণে আমরা এখন আবাদ করতে পারি না। জমির এক ছটাক ফসলও ঘরে তুলতে পারি না। ফসলি জমি থাকতেও তারা ফসলহীন বলে তিনি জানান।
একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ওয়াদুদ মিয়া বলেন, বর্ষা শেষে রশিদ দেওহাটা বিলের পানি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাইমাইল ব্রিজের নিচ দিয়ে বাইমাইল খাল হয়ে বংশাই নদীতে চলে যেত। সেই পানি প্রবাহের পথ নানাভাবে বন্ধ করায় বিলের পানি এখন বের হতে পারছে না। এতে শত শত একর তিন ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে গেছে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ফোরলেন এবং যমুনা সেতু রেল সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় পানি প্রবাহের কালভার্ট ব্রিজটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জামান মিয়া বলেন, মহাসড়কের বাইমাইল এলাকায় ব্রিজটির দক্ষিণ পাশে মাটি ভরাট করায় এবং বাইমাইল খালটি বেদখল হওয়ায় বিলের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবে থাকা নাইলা বিল থেকে পাইপ ড্রেন নির্মাণ করে বংশাই নদীতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে অতি সহজেই বিলের অনাবাদি জমি আবাদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান। এছাড়া এই ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে এলাকার কৃষক বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা খাতুন বলেন, এই বিলের সমস্যাটি বিভিন্নভাবে জেনেছি। বিলের পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় আমাদের হাতে নেই। তবে এলাকার অনেক কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।






