
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সেনেটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লাল মিয়া নামে এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তার স্ত্রী ছাড়াও ব্যবসায়ী মামলার স্বাক্ষী আলহাজ উদ্দিন, সবজি ব্যবসায়ী শামছুল হোসেন ও গোলাম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লাল মিয়া জানান, তিনি উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলার গোড়াই কাঁচাবাজার এলাকায় তিনি প্রায় ১৭ বছর যাবত মুদি দোকান করেন। সেনেটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহান প্রায়ই ওই এলাকায় গিয়ে ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র দেখার অজুহাতে টাকা দাবি করেন। চাহিদামত টাকা দিতে না পারলে মামলার ভয় দেখান। আবার কোন কোন ব্যবসায়ী তার চাহিদা মত টাকা দিলেও তার কোন রশিদ দেন না।
গত প্রায় ১১ মাস আগে লাল মিয়ার দোকানে গিয়ে ইসরাত জাহান লাইসেন্স দেখতে চান। দেখাতে না পারায় ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা দিতে না পারায় তার দোকান থেকে অবিক্রিত খেসারির ডাল (নমুনা) সংগ্রহ করে নিয়ে যান এবং তার বিরুদ্ধে তিন টাকার মামলা করার ভয় দেখান। প্রায় দুই মাস আগে লাল মিয়া জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে ইসরাত জাহান খাদ্য নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। এই মামলায় ওই এলাকার মাংস ব্যবসায়ী আলহাজ উদ্দিনের নাম স্বাক্ষী হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী লাল মিয়া প্রাক্তন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তিনি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান হলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোবারক হোসেন।
ইসরাত জাহান প্রায় দেড় যুগ আগে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন। কয়েক বছর আগে পার্শ্ববর্তী দেলদুয়ার উপজেলায় বদলি হলেও তিনি সেখানে যোগদান করেননি। বেশ কয়েকদিন পর তিনি পুণরায় মির্জাপুর কর্মস্থলে যোগদান করেন।
মামলার স্বাক্ষী মাংস ব্যবসায়ী আলহাজ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বলেন, লাল মিয়া কখনো ডাল বিক্রি করেননি। বাড়ির গরুর জন্য দোকানে রাখা ডাল ইসরাত জাহান নিয়ে যান। পরে জানতে পারি লাল মিয়ার নামে মামলা হয়েছে। ইসরাত জাহানের সাথে আমার কোন কথা না হলেও তিনি স্বাক্ষী হিসেবে আমার নাম দিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে লাইসেন্স দেয়ার কথা বলে প্রতি বছর সাত হাজার টাকা নেন। কিন্তু তিনি কোন রশিদ দেন না। আমরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার শাস্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি করছি। আরেক ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা বলেন, লাল মিয়ার ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়ার অবস্থাও নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মির্জাপুর বাজারের কয়েকজন ব্যভসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ইসরাত জাহানের ব্যবহার খুবই খারাপ। তিনি লাইসেন্সের কথা বলে তার চাহিদা মত টাকা দাবি করেন। এজন্য কাউকে দিয়ে সুপারিশ করালে তিনি খুবই বিরক্ত হন এবং মামলার ভয় দেখান। এখন তিনি দোকানে আসার পর সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে খাতা বা বই দেন। তার ভেতর টাকা দিতে হয়। তারা তাকে বদলির সুপারিশ করেন।
উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, একবার মামলার ভয় দেখিয়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন ইসরাত জাহান। বেশ কয়েক মাস পর আবার এসে বেকারির তৈরি পাউরুটি জব্দ করেন এবং মামলার ভয় দেখান। পরে তিনি স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীকে দিয়ে সুপারিশ করিয়ে ছাড়া পান বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে সেনেটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বাহিরে আছেন, পরে স্বাক্ষাতে এ বিষয়ে কথা বলবোনি বলে মোবাইলের লাইন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।






