
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বদলি হওয়া সত্ত্বেও দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই সপ্তাহ আগে বদলির আদেশ হলেও নানা অজুহাতে তিনি কর্মস্থল না ছাড়ায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত (৮ এপ্রিল) আরিফ হোসেনকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বদলি করা হয় এবং ভূঞাপুর উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনকে কালিহাতীতে পদায়ন করা হয়। কাগজ-কলমে গত (১৩ এপ্রিল) চকরিয়ায় যোগদান দেখালেও বাস্তবে আরিফ হোসেন এখনো কালিহাতীর অফিসিয়াল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, যাওয়ার আগে মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নিতেই তিনি সময়ক্ষেপণ করছেন। ইতোমধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার আগেই একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৬২ লাখ টাকা অগ্রিম বিল প্রদান এবং নিম্নমানের কাজের বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মতো দুর্নীতির তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, আরও কয়েকটি বড় প্রকল্পের ‘কমিশন’ পকেটে ভরতেই তিনি নতুন প্রকৌশলীকে দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি করছেন।
নতুন যোগদানকৃত প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন জানান, তিনি যোগদান করলেও এখনো চার্জ বুঝে পাননি। ফলে দাপ্তরিক কাজ ও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদায়ী প্রকৌশলী আরিফ হোসেনের টালবাহানায় কালিহাতী উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী (যোগদানকৃত) আরিফ হোসেন বলেন, চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাশের পদোন্নতি হওয়ায় তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে কিছুটা সময় নিচ্ছেন। তিনি সরে গেলেই আমি কালিহাতীর দায়িত্ব নতুন প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনকে বুঝিয়ে দিব। এ সময় তিনি প্রকল্পের বিল দিতে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলীর যোগদান নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। সামনের সপ্তাহের মধ্যে এ জটিলতা দূর হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।






