
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের সিংগুড়িয়া গ্রামে পরিবেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অন্তত চারটি ইটভাটা। ফলে প্রতিনিয়ত ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। সম্প্রতি সিয়াম ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় শত বিঘা জমির ধান ও খর পুড়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও বর্গা চাষিরা। কৃষকদের দাবি, ধান পুড়ে তাদের অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ না পেলে অনেকের অর্ধহারে অনাহারে দিন পার করতে হবে। এ বিষয়ে কথা বলেনি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে সিঙ্গুরিয়া গ্রামের সিয়াম ইটভাটা বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়। এতে আশপাশের অন্তত ১০০ বিঘার জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকালে দেখা যায়, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের আনাহলা ইউনিয়নের সিংগুড়িয়া গ্রামে বোরো মাঠে ক্ষেতের পর ক্ষেত পুড়ে গেছে। বোরো মাঠে ক্ষেতের পর ক্ষেত ধানের শীষ বের হয়েছে। কোন ক্ষেতে এক সপ্তাহ পর, আবার কোথাও দুই সপ্তাহ পর ধান কাটা শুরু হতো। কৃষকরা স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনালী ধানে গোলা ভরবে। সেই স্বপ্নে এখন গুড়েবালি। কারণ এসব ক্ষেতের পাশে অন্তত চারটি ইটভাটা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, লিয়াকত তালুকদার, খালেক, শফিকুল ইসলাম ও রোস্তম আলীসহ বেশকয়েকজন কৃষক জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও ফসলি জমির কাছাকাছি ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। তারপরও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একাধিক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এতে প্রতিবছরই উৎপাদন কমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অনেকেই ঋণ করে বোরোর চাষ করলেও সেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়েছে। শুধু ধানই পুড়ে যায়নি, খড়ও নষ্ট হয়েছে। সরকারের সহযোগিতায় ক্ষতিপূরণ চান তারা।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, বনভূমি উজার করে ইটভাটা পরিচালনা করার ফলে কার্বনডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে। এতে শ্বাসকষ্টসহ পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনে বাধার সৃষ্টি করছে। প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কোন সুরাহা পায় না প্রান্তিক কৃষকরা।
এ বিষয়ে ইটভাটার মালিক শহিদুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে বক্তব্য চাইলে তিনি কোন মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, কৃষকদের অন্তত ১০০ বিঘা জমির ধান পুড়ে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কয়েক দফা মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ পেতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস এই কৃষি কর্মকর্তার।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিসার দিলশাদ জাহান জানান, বিষয়টি জানার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





