
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥
দীর্ঘদিন পর ফুটবলের প্রাণ বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টে উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনী খেলায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা দল (৩-০) গোলে বাসাইল উপজেলা দলকে পরাজিত করেছে। এর আগে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, দীর্ঘদিন দেশের ক্রীড়াঙ্গন স্থবির ছিল। একসময় টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম দর্শকে পরিপূর্ণ থাকত, টিকিট কেটে মানুষ খেলা দেখতে আসত। কিন্তু গত ১৭ বছর অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কলুষিত করেছিল। বর্তমান সরকার খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সারাদেশে খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে জেলা পর্যায়ে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
খেলাধুলার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খেলা নিয়ে কোনো বিদ্বেষমূলক আচরণ বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে। সবাই আনন্দের সঙ্গে খেলা উপভোগ করবে। খেলাধুলা মানুষকে আনন্দ দেয় এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করে। তাই টাঙ্গাইলে আরও বেশি খেলাধুলার আয়োজন করা হবে এবং ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আদিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব আরিফুল হক প্রিন্সসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।
দু’দলের মোট ১০ নাইজেরিয়ান ফুটবলার দাপটে শুরু থেকে আক্রমন পাল্টা আক্রমনে ফুটবল খেলায় টাঙ্গাইল সদরের প্রভাব একটু বেশী। টাঙ্গাইল সদর দলের জাতীয় দলের স্টাইকার সুমন রেজা, সৌরভ দেওয়ানের উপস্থিতি বাড়তি মাত্রা যোগ হয়। খেলার ২৮ মিনিটের সময় টাঙ্গাইল সদরের আক্রমনে নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় বেনজামার নিখুঁত পাসে চলন্ত বলে মুন্না চমৎকার শটে গোল করে (১-০) দলকে এগিয়ে নিলে টাঙ্গাইলের দর্শকের উচ্ছাসের জোয়ার শুরু হয়। পিছিয়ে পড়ে বাসাইল উপজেলা আক্রমন খেলেও টাঙ্গাইলের গোলরক্ষক মজনুর চমৎকার পারফরম্যান্সে বাসাইল উপজেলা গোল বঞ্চিত হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সদরের আক্রমনে মুন্নার গোলমুখী শটে বাসাইল উপজেলার রক্ষন ব্যাক ইমন ডিফেন্স করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন (২-০) দ্বিতীয় গোল হজমের পর বাসাইল উপজেলার খেলা ছন্নছাড়া হয়ে যায়। এ সুযোগে সদরের আক্রমনগুলোতে স্টাইকাররা গোল করার সুযোগ নষ্ট করে। খেলার শেষ মুর্হতে চমৎকার ফ্রি কিক থেকে সানডে চিবুবা গোল করে (৩-০) করে। বাসাইল উপজেলার বিদেশী খেলোয়াড়দের ৩টি গোলবারমূখী শট সদরের গোলরক্ষক মজনু চমৎকারভাবে প্রতিহত করে। তবে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় খেলায় দুই দলের জার্সি একই রং সাদা হওয়ায় খেলোয়াড় ও দর্শকদের খেলতে ও খেলা দেখতে অসুবিধা হয়।

এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলার ১২টি উপজেলা অংশগ্রহণ করছে। প্রতিটি দলে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচজন বিদেশি ফুটবলার খেলার সুযোগ রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বাসাইল উপজেলার মুখোমুখি হয়। একই দিনে জেলার বিভিন্ন ভেন্যুতে আরও পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) ফিরতি পর্বের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। আগামী (১৫ থেকে ১৯ জুলাই) সুপার সিক্স পর্ব শুরু হবে। আগামী (২৮ ও ২৯ জুলাই) সেমিফাইনাল এবং আগামী (১ আগস্ট) টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, বিগত ১৯৮০ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেজাউল ইসলামের উদ্যোগে টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয়। একসময় দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। সর্বশেষ বিগত ২০১৫ সালে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দলের খেলোয়াড়রা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলা দল- মজনু, রানা, মুন্না, ইউসুব (নাইজেরিয়া), ফেবার (নাইজেরিয়া), অনিক, বিল্লাল (নাইজেরিয়া), বেনজামা (নাইজেরিয়া), সুমন রেজা (অধিনায়ক), সৌরভ দেওয়ান ও সানডে (নাইজেরিয়া)।
বাসাইল উপজেলা দল- ইসহাক, ইমন, আনিকেড (নাইজেরিয়া), বিষ্ণু, সিদ্দিক (নাইজেরিয়া), শিহাব, বোটিং (নাইজেরিয়া), জাকারিয়া, রাহাত, ইসমাইল (নাইজেরিয়া) ও আহাত (নাইজেরিয়া)।
রেফারী ছিলেন- মাসুদ রানা।






