
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভেজাল ও নিম্নমানের বীজ ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পেঁপেচাষিরা। প্রতারক বীজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযোগ তুলছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। মধুপুর গড়ের উর্বর লাল মাটিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল হয়। বিশেষ করে আনারসের সঙ্গে খামারিরা হাইব্রিড পেঁপের বাণিজ্যিক আবাদ করেন।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবার ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সোয়া লাখ টন। সিংহ ভাগ পেঁপে কাঁচা সবজি হিসেবে ঢাকাসহ দেশের নানাস্থানে পাইকারি চালান যায়। কৃষকদের অভিযোগ, টানা দুই বছর ধরে বহুজাতিক কোম্পানির ভেজাল ও নিম্নমানের বীজে পেঁপে আবাদ করে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বিগত ২০২৫ সালে বগুড়া থেকে কেনা টপলেডি হাইব্রিড বীজে নার্সারি বা বীজতলা তৈরি করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। সেসব বীজ সিংহভাগই গজায়নি। কিছু গজালেও রোপিত চারায় ফল ধরেনি।
চলতি বছরেও অনেকে ভেজাল ও নিম্নমানের বীজ ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়েছেন। মধুপুরে পেঁপেচাষি হারুন অর রশীদ পাঁচ একরে পেঁপের আবাদ করেন। তিনিসহ ২২ জন বাণিজ্যিক পেঁপেচাষি মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের নিকট লিখিত দরখাস্তে অভিযোগ করেন, জলছত্র গ্রামের নার্সারি মালিক শাহজাহান আলীর নিকট থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৭১ হাজার টপলেডি চারা কিনে জমিতে লাগিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। টানা ছয় মাস জমিতে সেচ, সার, বালাইনাশক প্রয়োগ এবং শ্রমিক খাটানোর পর দেখা যায়, গাছে ফুল ধরেছে। কিন্তু ফল আসছে না।
গাছ প্রতি তাদের কমপক্ষে ৮০০ টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে শুধুমাত্র ২২ জন বড় খামারির আর্থিক ক্ষতি ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তারা এর তদন্ত এবং প্রতারক বীজ ও চারা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসকে নির্দেশ দেন। উপজেলা কৃষি অফিস সরেজমিন তদন্ত শেষে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। তদন্ত রিপোর্টে চাষি হারুন-অর-রশীদের দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানানো হয়। তদন্ত কমিটির সদস্য এবং বেড়িবাইদ ব্লকের উপ সহকারী কৃষি অফিসার জুবায়ের হোসেন জানান, টপ লেডি মানে টপ প্রতারণা। চাষিরা এ বীজ এবং চারা কিনে টানা দুই বছর ধরে প্রতারণার শিকার হয়ে আসছেন।
ভেজাল বীজ ও চারা বিক্রেতা শাহাজাহান আলী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিক্রিত বীজ চারা ভেজাল না নির্ভেজাল, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারছেন না।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মমতাজ মুন্নী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি জানান, বিগত ২০২৫ সালে পেঁপে বীজ না গজানোর অভিযোগের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে জরিমানা করেন। চলতি ২০২৬ সালের ঘটনাটি ভেজাল পণ্য হিসেবে গণ্য হওয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের বিচার্য বিষয়। তাই এটি উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের আওতায় পড়ে না। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদেরকে আদালতে মামলা দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।






