
সখীপুর প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্ত্রী কাকলী আক্তারকে ছুরি দিয়ে হত্যার দায়ে মেহেদী হাসান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান সখীপুর উপজেলার ইচ্ছাদিঘী (আতিয়াপাড়া) এলাকার হায়দর আলীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, মেহেদী হাসান দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ার টাকা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রী কাকলী আক্তারের সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ১৫ বছরের একটি মেয়ে ও ১০ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিগত ২০২৫ সালের (২৭ জুলাই) কাকলী সন্তানদের নিয়ে সখীপুর জেলের মোড়ে তার চাচার বাসায় চলে যান। এরপর গত (৩ আগস্ট) সকালে মেহেদী ফোন করে স্ত্রীকে জানান, তিনি বাসার ফ্রিজ বিক্রি করে দেবেন। একথা শুনে কাকলী সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন। সেখানে একটি নতুন ধারালো ছুরি দেখতে পেয়ে তিনি স্বামীকে ছুরি কেনার কারণ জিজ্ঞেস করেন। এ সময় মেহেদী ক্ষিপ্ত হয়ে বিছানার নিচে রাখা ছুরি বের করে কাকলীর পিঠে আঘাত করেন।
কাকলীর চিৎকার শুনে তার মেয়ে ও বাড়িওয়ালি ছুটে এলে মেহেদী রক্তাক্ত ছুরি নিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা কাকলীকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিন নিহতের ভাই সেনা সদস্য বাদল মিয়া সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা থেকে মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে নিহতের ১৫ বছরের মেয়ে মেরী আক্তার আদালতে বাবার হাতে মায়ের হত্যার ঘটনার সাক্ষ্য দেয়।
সর্বশেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত মেহেদী হাসানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।






