
স্টাফ রিপোর্টার ॥
জনগণের দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নব্য সৈর শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা মানলেন না? এ লড়াই ১৮ কোটি মানুষের জন্য। এ দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। তিনি সরকারের প্রতি প্রশ্ন করে বলেন, ১৪ শত শহীদদের সাথে কেন বেইমানি করলেন! কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেন নি! আপনারা বলেছিলেন র্অনির্বাচিত কাউকে কোথাও বসাবেন না ; কিন্তু আপনারা সব জায়গায় প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা একটা কথাও রাখেননি; সব জায়গায় ধোকা দিয়েছেন। জাতি যা চেয়েছিল তা আপনারা দিতে পারছেন না আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি গ্যাস বিদ্যুতের ব্যাপারে প্রশ্ন করে বলেন, এগুলো কি আপনারা পান? সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি দুর্নীতিসহ সকল দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই হবে ইনশাআল্লাহ। সেই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে। জনগণের জন্য ৮ দফা বিলুপ্ত ঘোষণা করে ১ দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে। আগামীর লং মার্চ হবে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার দিকে ইনশাআল্লাহ। মা-বোনেরা যেহেতু রাস্তায় নেমে এসেছেন দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ। আগামীর আন্দোলন সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহবান জানান আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত ঢাকা-রংপুর লং মার্চে টাঙ্গাইল নগরজালফৈ বাইপাস মহাসড়কের পথসভায় তিনি একথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে। সংসদে সবকিছুর ফয়সালা হবে। কিন্তু সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করে দেশের ৭০ ভাগ মানুষকে অপমান করেছে। জনগণকে দেওয়া কথার সঙ্গে গাদ্দারি করেছে, প্রতারণা করেছে। ৭০ ভাগ জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটা আমরা আদায় করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এর আগে আমরা থামব না। এ লড়াই চলবে। বাংলাদেশ বদলাবে। জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বললেন, প্রস্তুত থাকুন। বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে। এই লড়াইয়ে জনগণ বিজয়ী হবে। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সামনে কঠিন সংগ্রাম, সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে। আমরা টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানীর উত্তরসূরী; আমাদের দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

কর্নেল ড. অলি আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যে আওয়ামী লীগের দ্বারা সরকার, প্রশাসন চালাচ্ছেন, এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না। আমাদেরকে একদফা আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিবেন না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আজকের এই লং মার্চ প্রমান করছে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায় করতে জানে। সোজা আঙুলে ঘি না ওঠলে আঙুল বাঁকা করতে জানে জনগণ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, জনগণ কোনো শিশু সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। পরিণত বয়সের মানুষের দল ক্ষমতায় বসে নিজেদেরকে শিশু বলে দাবি করছে। কর্নেল ড. অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিলাল হোসাইন মিয়াজি বলেন, গণভোট নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। এনসিপির সরোয়ার তুষার বলেন, আগের মতো খাম্বাগিরি চলবে না, তেল, গ্যাস বিদ্যুৎ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আই হেভ এ প্ল্যান, আসলে দে হেভ নো প্ল্যান।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, ড. আহসান হাবীব ইমরোজ, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা আহবায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, সেক্রেটারি মাওলানা যায়েদ হাবিব, ইসলামি ছাত্রশিবিরের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি আব্দুল আলিম প্রমুখ।






