
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুরে জয়নাগাছা গ্রামের আদিবাসী যুবক দোলন ম্রংয়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার জলছত্র-পঁচিশ মাইল এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা হামলার ঘটনার আড়াই মাসেও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন । দ্রুত গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে কর্মসূচি থেকে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বক্তারা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান বন মামলাগুলো পর্যালোচনা করে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানি বা মামলার শিকার না হন। সেদিকেও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।
মানববন্ধনে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, সহ-সভাপতি প্রবীন চিসিম, আচিক মিচিক সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সুলেখা ম্রং, নাগরিক উদ্যোগের প্রকল্প কর্মকর্তা নেন্সী নকরেক, আজিয়ার সাবেক সভাপতি মিঠুন হাগিদক ও জয়নাগাছা গ্রামের আদিবাসী নারী নেত্রী রুজি ম্রংসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, নাগরিক উদ্যোগ, আচিক মিচিক সোসাইটি, আইপিডিএস, বাগাছাসসহ বিভিন্ন আদিবাসী ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত (৯ জুলাই) দিনে জয়নাগাছা গ্রামের বাড়ির সামন দিয়ে বনের গজারী গাছ কেটে নেয়ার সময় কাদাযুক্ত হওয়ার প্রতিবাদ করায় গাছ কর্তনকারীদের সাথে দোলনের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওইদিন মধ্যরাতে জোটবদ্ধ হয়ে দোলনের বাড়িতে আক্রমণ ও দোলনকে পিটিয়ে মারাত্নক আহত করে এবং টাকা পয়সা লুট করে ওই গাছ কাটার দল। এমন দাবিতে দোলনের স্ত্রী জনিতা মাংসাং ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত দিয়ে গত (১৪ জুলাই) মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।






