
নুরুল ইসলাম, দেলদুয়ার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেওলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায় কেনা হয়েছে স্থায়ী খেলার মাঠের জমি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে খেলার মাঠটি বুঝে নেওয়ার মুহুর্তটি স্মরনীয় করে রাখতে গ্রামজুড়ে উৎসবের আয়োজন করা হয়। উদ্যোক্তাদের ফুলের মালা পরিয়ে কিশোর, যুবক ও বয়োবৃদ্ধরাও বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে এক মহা উৎসবে মেতে উঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। ওই গ্রামে কিশোর যুবকদের কোনও খেলার মাঠ ছিল না। তাই তারা কৃষি জমির ফসল কাটার পর পরিত্যক্ত জমিতে ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা চালিয়ে যাচ্ছিল।
সম্প্রতি বাবুপুর গ্রামবাসী এলাকার যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ দেখে কয়েকজন সমাজ হিতৈষি উদ্যোগ নেন একটি স্থায়ী খেলার মাঠ স্থাপনের। সে লক্ষে গ্রামবাসীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত হয় স্থানীয়ভাবে টাকা তুলে মাঠের জমি ক্রয়ের। মাঠের উপযুক্ত জায়গা পছন্দ করে জমির মালিককে তাদের উদ্দ্যেশের কথা জানালে মালিক রাজি হয়ে যায়। সে মোতাবেক গ্রামবাসীর নিকট থেকে চাঁদা তুলে ৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়।
জমি কেনার অন্যতম উদ্যোক্তা বাবুপুর গ্রামের সন্তান এস.এম ইকবাল মাহমুদ। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে এই গ্রামের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলমের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। তাকে জানানো হয়, গ্রামবাসীর নিকট থেকে চাঁদা তুলে মাঠের জমি কেনা যায় কিনা। এ বিষয়ে তিনি সায় দেন। পরে গ্রামের কয়েকজন বিত্তশালী লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করলে তারাও জমি কেনার পক্ষে মত দেন। গত (৮ সেপ্টেম্বর) গ্রামবাসীর সঙ্গে এ বিষয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়। সেখানেই খেলার মাঠের জন্য জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা গেছে, খোরশেদ আলম ও ইকবাল মাহমুদ ছাড়াও বিত্তশালীদের মধ্যে আজাহার সিকদার, সেলিম আল মামুন, মিজানুর রহমান, মজনু সিকদার, শফিকুল ইসলাম ও শুভ প্রামানিক বড় অঙ্কের টাকা অনুদান দেন। গ্রামবাসীদের মধ্যে যার যার সামর্থ অনুযায়ী দুইশত, পাঁচশত, এক হাজার, দুই হাজার, পাঁচ হাজার, দশ হাজার পর্যন্ত চাঁদা দেন। প্রতি শতাংশ ৫২ হাজার টাকা দরে ৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়।
অন্যতম উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম বলেন, আপাতত ৬০ শতাংশ জমি খেলার মাঠের জন্য কিনেছি। পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি কেনার লক্ষ রয়েছে। ১২০ শতাংশ জমি হলে ভালো মানের একটি খেলার মাঠ হবে যেখানে এলাকার কিশোর, যুবকরা স্বাচ্ছন্দে ক্রীড়া চর্চা করতে পারবে।
বাবুপুর গ্রামের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র শরিফুল ইসলাম জানান, তাদের গ্রামে কোনও খেলার মাঠ ছিলো না। খেলতে হতো পরিত্যাক্ত ফসলের খেতে অথবা অন্য গ্রামে গিয়ে। বিষয়টি নিজের কাছে খুব খারাপ মনে হতো। মাঠ হওয়ায় এখন নিজেদের মাঠে খেলাধুলা করা যাবে।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বেপারী বলেন, বহু বছর ধরে গ্রামে একটি মাঠের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। আজ আমাদের স্বপ্নের মাঠ বাস্তবায়িত হলো। তাই খুব আনন্দ লাগছে।
দেওলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মাদকের দিকে ধাপিত হচ্ছে। তারা যাতে মাদক ছেড়ে খেলার মাঠের সঙ্গে যুক্ত থাকে সে বিষয়টি মাথায় রেখেই স্থায়ী খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে গ্রামের ৭০০ পরিবারের সকলের ও প্রবাসীদের সম্মিলিত সহযোগিতা রয়েছে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোহরা সুলতানা যূথী বলেন, গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে চাঁদা তুলে খেলার মাঠের জন্য জমি কেনার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। এ ধরনের মাঠ শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরীর পাশাপাশি মাদকমুক্ত রাখবে।





