
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নতুন আরও একটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। মামলায় মির্জাপুরের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদসহ ১১০ জনকে আসামী করা হয়েছে। বিগত ২০২১ সালের (২৩ আগস্ট) চাঁদাবাজির ঘটনার কথা উল্লেখ করে গোড়াই ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মজনু মিয়া গত (৫ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলী আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে গত (১৭ ফেব্রুয়ারি) মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান।
গত (৫ আগস্টের) পর মির্জাপুর থানা ও টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা, হামলা ভাংচুর ও চাঁদাবাজিসহ তিনটি মামলা হয়েছে। এতে মির্জাপুরের সাবেক এমপি খান আহমেদ শুভ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্তসহ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বিগত ২০২১ সালের (২৩ আগস্ট) গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপুর এলাকায় বিএনপি সমাবেশ আহবান করে। ওইদিন একই সময় একই স্থানে স্বেচ্ছাসেবক লীগও সমাবেশের ডাকা দেয়। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মামলার বাদী মজনু মিয়াসহ কয়েকজনকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
বিগত ২০২১ সালের (২৩ আগস্টের) এ ঘটনার সারে তিন বছর পর চলতি মাসের গত (৫ ফেব্রুয়ারি) মজনু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলী আদালতে মামলার আবেদন করে। এতে মির্জাপুরের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান খান সোহেল, টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাতিনুজ্জামান খান সুখন, গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ খান, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ভূইয়া ঠান্ডু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মীর আসিফ অনিক, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সেতাব মাহমুদসহ ১১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত মামলার আবেদনটি আমলে নিয়ে মির্জাপুর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে তদন্তের পর থানা পুলিশ গত (১৭ ফেব্রুয়ারি) মামলাটি নথিভূক্ত করে। এ ব্যাপারে মামলার বাদী মজনু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন মজনু মিয়ার দায়ের করা মামলাটি নথিভূক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এখন পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।