
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অজ্ঞাত নিহত নারী ও নবজাতকের মরদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছে চিকিৎসক। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়ে চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। গত (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা বস্তাবন্দী অবস্থায় নবজাতকসহ অজ্ঞাত ওই নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আলমগীর হোসেন জানান, ময়নাতদন্তে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তবে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যেই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা বস্তাবন্দী অবস্থায় নবজাতকসহ এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নদীর পাড়ে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় মানুষ সেখানে গিয়ে দেখতে পান, একটি কুকুর মাটির নিচ থেকে কিছু একটা টেনে বের করার চেষ্টা করছে। পরে মাটি খুঁড়ে একটি বস্তা এবং তার ভেতর ওই নারী ও নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, মরদেহ দেখে ধারণা হয় যে নির্যাতনে মৃত্যুর সময় সাত বা আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী প্রসব করে থাকতে পারেন। মরদেহ দুটি উদ্ধারের পরদিন (২১ এপ্রিল) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ব্যবস্থাপনায় মির্জাপুর পৌর কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, উদ্ধার হওয়ার প্রায় ৯-১০ দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণসহ অন্যান্য বিষয় আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
মরদেহ উদ্ধারের পরদিনই স্থানীয় এক গ্রাম পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বর্তমানে ওই নারী ও নবজাতকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন।





