
আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আর এ ধর্ষণের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এই দুই নেতাসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। এদিকে মামলা করার পর আসামিদের হুমকির মুখে ওই তরুণী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন।
ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা যুবদল নেতার নাম দুলাল উদ্দিন ওরফে রাবন (৪০)। তিনি গোপালপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাবেক সদস্য সচিব। ধর্ষণের দৃশ্য ধারণকারী ব্যক্তি হচ্ছেন গোপালপুর উপজেলা ছাত্রদলের স্থগিত করা কমিটির সভাপতি রোমান আহম্মেদ (৩০)। তাঁদের বাড়ি গোপালপুর পৌরসভার অভঙ্গী এলাকায়। মামলায় এক নারীকেও আসামি করা হয়েছে। তিনি গোপালপুর সদরে একটি বিউটি পারলারের মালিক।
মামলার এজাহার ও ওই তরুণীর (২২) সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, গত (১ ফেব্রুয়ারি) ও গত (১ এপ্রিল) দুই দফা তিনি ধর্ষণের শিকার হন। তিনি একটি বিউটি পারলারে সাজতে যেতেন। তখন ওই পারলারের নারী মালিকের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত (১ ফেব্রুয়ারি) ওই পারলারের মালিক তরুণীকে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে বলে ডেকে নেন। সকাল ১০টার দিকে ওই পারলারে ঢোকার পর যুবদল নেতা দুলাল উদ্দিন ও ছাত্রদল নেতা রোমানকে দেখতে পান। এ সময় পারলারের নারী মালিক সেখান থেকে বের হয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দুলাল উদ্দিন একটি ছুরি বের করে ভয় দেখিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় ছাত্রদল নেতা রোমান তাঁর মুঠোফোনে ধর্ষণের দৃশ্য ও তরুণীর নগ্ন ছবি ধারণ করেন। ধর্ষণ শেষে এ ঘটনা কাউকে বললে তরুণীর নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন।
এরপর তরুণীকে দুলাল উদ্দিন গত (১ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে গোপালপুরের একটি পুকুরপাড়ে ডেকে পাঠান। সেখানে গেলে তাঁর সামনে ভিডিও মুছে ফেলবে বলে জানান। তরুণী সেখানে গেলে তাঁকে আরও একজনের সহযোগিতায় ভয় দেখিয়ে দুলাল উদ্দিন আবার ধর্ষণ করেন। পরে তিনি হুমকি দেন, যখন ডাকবেন, তখনই যেতে হবে, না হলে নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ওই তরুণীর সঙ্গে টাঙ্গাইল আদালত এলাকায় কথা হয়। তিনি জানান, দ্বিতীয় দফা ধর্ষণের পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় দুলাল উদ্দিন সেখানে গিয়ে মামলা না করার জন্য তাঁকে হুমকি দেন।
গত (৩ এপ্রিল) ওই তরুণী গোপালপুর থানায় মামলা করতে যান, কিন্তু পুলিশ তখন মামলা নেয়নি। পরে গত (১৩ এপ্রিল) টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই তরুণী বাদী হয়ে মামলা করেন। আদালতের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য গোপালপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পরে গোপালপুর থানা পুলিশ গত (১৫ এপ্রিল) মামলাটি রেকর্ড করে।
ওই তরুণীর অভিযোগ, মামলা হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। আসামিরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও আসামিরা হুমকি দিচ্ছেন। তাঁদের চাপ ও হুমকির মুখে পরিবারের লোকজনও ওই তরুণীর বিরুদ্ধে চলে গেছেন। তাঁরা মামলা মিটিয়ে ফেলার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দুলাল উদ্দিন ও রোমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন বলেন, ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। এখনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব জাহিদ হোসেন মালা জানান, গোপালপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ জানান, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় গোপালপুর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গত ডিসেম্বরে স্থগিত করা হয়েছে। এখনো নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি।






