
স্টাফ রিপোর্টার ॥
জ্ঞানের আলো ছড়ানোর পবিত্র বিদ্যাপীঠ এখন যেন এক আতঙ্কের জনপদ। যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার আলো ছড়ানোর কথা, সেই শ্রেণিকক্ষেই ঘটেছে এক লজ্জাজনক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদীর হাতে মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নজমুন নাহার নাহিদ। রোববার (২১ জুন) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল সালিশের নামে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের শহর গোপিনপুর আষাঢ়িয়া চালা ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাজমুন নাহার নাহিদ। প্রতিদিনের ন্যায় রোববার (২১ জুন) বিদ্যালয়ে যান তিনি। ওইদিন ক্লাস চলাকালীন সময়ে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেদি শিক্ষিকা নাজমুন নাহার নাহিদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে। অভিযুক্ত মেহেদির বাবা ছবুর মিয়া একই বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত, আর বাবার সেই প্রভাবকে পুঁজি করেই দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া আচরণ করে যাচ্ছিল মেহেদি। ঘটনার তিনদিন পর সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, একজন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত। এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষকের মর্যাদার ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী। পরে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি মীমাংসার নামে ধামাচাপার চেষ্টা চলছে। উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছে তারা।
শিক্ষিকা নাজমুন নাহার নাহিদ জানান, আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা কোনো শিক্ষকই মেনে নিতে পারবেন না। ঘটনার সঠিক বিচার চেয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, সালিশের মাধ্যমে ওই ছাত্রকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, শুনেছি এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশে অভিযুক্ত ছাত্রকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।






