
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে ওই কক্ষের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে চলতি বছরের পরীক্ষার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। চলতি বছর মির্জাপুর উপজেলার ১০টি কলেজ থেকে ৪টি কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ৯৩৯ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। যার মধ্যে ৩৬ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পরীক্ষার দিন শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের অডিটরিয়াম কক্ষে প্রথমে নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় ভারতেশ্বরী হোমসের এক পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের বর্তমান সিলেবাসের পরিবর্তে ভুলবশত ২০২৫ সালের পুরোনো সিলেবাসের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরী এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার ওই কক্ষ পরিদর্শনে যান। এ সময় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন যে, তার প্রশ্নপত্র অন্যদের চেয়ে আলাদা। বিষয়টি যাচাই করে দেখা যায়, তাকে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ ভুল সংশোধন করে তাকে ২০২৬ সালের নির্ধারিত সিলেবাসের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে কেন্দ্র চত্বরে থাকা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, অন্যদের প্রশ্নপত্রের সাথে নিজের মিল না পেয়ে তিনি বিষয়টি খেয়াল করেন। ততক্ষণে পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ২০ মিনিট অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরী বলেন, আমরা পরিদর্শনে না গেলে ওই শিক্ষার্থীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেত। শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব শহীদ ওসমান গনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই কক্ষে দায়িত্বরত দুই শিক্ষককে চলতি বছরের পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দারও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।





