
স্টাফ রিপোর্টার ॥
পাসপোর্ট করতে আসা এক আবেদনকারীকে তার মায়ের নামের ইংরেজি বানান নিয়ে হয়রানির অভিযোগে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলম। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ, দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশ ও সেবা প্রার্থীদের হয়রানির নানা অভিযোগ উঠে।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ টি এম আবু আসাদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তার এই বদলির আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমকে ভিসা সেল, এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে বেসিক ক্লিয়ারেন্স শাখা, পার্সোনালাইজেশন কমপ্লেক্স, উত্তরা, ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাইয়ের) মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা না হলেও ‘জনস্বার্থে’ এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জুনাইদ হাসান নামে এক যুবকের পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ না করাকে কেন্দ্র করে আবজাউল আলমের সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আবেদনকারীর মায়ের নামের ইংরেজি বানান নিয়ে আপত্তি তুলে তাকে হয়রানি করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এছাড়া টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া ফাইল গ্রহণ না করা, দালালের মাধ্যমে সেবা নিতে বাধ্য করা, সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের অযৌক্তিকভাবে হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অতীতে এক ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি হওয়ার বিষয়ে অভিযোগগুলো উঠে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী মাসুদ রানা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও তার ছোট ভাই জুনাইদের পাসপোর্ট আবেদন অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে গ্রহণ করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করার আহ্বান জানান।
অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও, বিভিন্ন প্রতিবেদন, সংবাদ সম্মেলন এবং জনমনে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় আবজাউল আলমকে টাঙ্গাইল থেকে বদলির আদেশ জারি করা হয়।
বদলির আদেশের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু বদলি নয়, তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।





