
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সালিশি বৈঠক শেষে দুই নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোড়-হাকিমপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতের বড় ভাই সুরুজ্জামান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আহতরা হলেন- উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোড় হাকিমপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস ছবুর মিয়ার মেয়ে পারভিন বেগম, ছেলে নূরুল আমিন ও নূরুল আমিনের স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা উর্মি আক্তার। আর অভিযুক্তরা হলেন- একই এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন (৪৫), আব্দুল লতিফ (৪০), মেয়ে ফাতেমা বেগম ও রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁনের স্ত্রী রহিমা বেগম।
জানা গেছে, উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোড় হাকিমপুর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুরুজ্জামান ও পাশের বাড়ির রহিম ওরফে মুল্লুক চানের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে বসা হয়। শালিসে সমাধান হলেও পরবর্তীতে গিয়ে রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন বিষয়টি মেনে নিচ্ছে না। সর্বশেষ শনিবার (১১ জুলাই) বিষয়টি নিয়ে আবারও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান মিয়াসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে বসা হয়। শালিসে দুইপক্ষই বিচার মেনে নেয় কিন্তু মাতব্বররা চলে যাওয়ার পর রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন ও তার ছোট ভাই আব্দুল লতিফসহ কয়েকজনে মিলে সুরুজ্জামানের পরিবারের লোকজনের ওপর অতর্কিতভাবে দা ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় সুরুজ্জামানের ছোট বোন পারভিন আক্তারকে দা দিয়ে মাথায় কুপ ও হাতে শাবল দিয়ে আঘাত করে। এছাড়াও সুরুজ্জামানের ছোট ভাই প্রবাসী নূরুল আমিন ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী উর্মি আক্তারকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পারভিন আক্তার ও নূরুল আমিন ও তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী উর্মি আক্তারকে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পারভিন আক্তারের মাথায় ১২টি ও হাতে ৩টি সেলাই করেছে চিকিৎসক। তারা বর্তমানে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে পারভিন আক্তারের অবস্থা গুরুতর।
আহত পারভিন আক্তারের বড় ভাই সুরুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে বসা হয়। সালিশে বিষয়টি সমাধান হয়। কিন্তু মাতাব্বররা চলে যাওয়ার পর রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন ও তার ছোট ভাই আব্দুল লতিফসহ কয়েকজনে মিলে দা ও লাঠি নিয়ে এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমার ছোট বোন ও ছোট ভাইসহ তিনজন আহত হয়েছে। আমার ছোট ভাইয়ের বউ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তাকেও মারধর করা হয়েছে। তারা আমার ছোট ভাই প্রবাসী নূরুল আমিনকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবি করছি।
এ ব্যাপারে কাশিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান মিয়া বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয় নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশে বসা হয়েছিল। ওইদিন বৃষ্টি থাকায় জমির পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। আমরা সেখান থেকে চলে আসার পর প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে পারভিন নামের এক নারীকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও শাবল দিয়ে আঘাত করে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। বিষয়টি সমাধান হওয়া জরুরি।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে বাসাইল থানার (এসআই) ফরিদ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পরে আহতদের হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।






