
স্টাফ রিপোর্টার ॥
বিকেলের হালকা রোদে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের পাটখাগুড়ি গ্রামে যখন সবুজের ঢেউ খেলে যায়। তখন এক তরুণ উদ্যোক্তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক চিলতে বিষাদ আর মায়ের প্রতি গভীর টান। তিনি আল আমিন- যিনি আজ হাজারো তরুণের অনুপ্রেরণা, অথচ যার এই সফলতার বীজ বপন হয়েছিল এক চরম শোকের মুহূর্তে। মায়ের শেষ পথ্য থেকে তার উদ্যোক্তার হওয়ার গল্প।
বিগত ২০২৩ সাল। আল আমিনের কাছে সময়টা ছিল জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণ। প্রিয় মা ক্যানসারের সাথে লড়াই করছেন। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেন নিয়মিত ‘আনার’ বা ডালিম খাওয়ানোর। কিন্তু বাজারে গিয়ে আল আমিন দেখলেন, চকচকে সেই ফলগুলোতে কেমিক্যাল আর বিষাক্ত ওষুধের ছড়াছড়ি। ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের মুখে এই বিষ তুলে দিতে মন সায় দিল না তার। মায়ের জন্য নিরাপদ ফলের অভাব থেকেই আল আমিন সিদ্ধান্ত নেন- তিনি নিজেই আনার চাষ করবেন।

শুরু হলো উঠোনের কোণে ছোট ছোট চারা রোপণ। কিন্তু নিয়তির অমোঘ বিধানে মা তাকে ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মা নেই, কিন্তু রয়ে গেল তার জন্য রেখে যাওয়া সেই অপূর্ণ সেবা আর এক বুক ভরা দোয়া। আজ যখন সারাদেশে মানুষের ছাদ বাগানে চলে যাচ্ছে তার আনার গাছের চারা ও ফল, তখন মনটা ভরে উঠে তৃপ্তির ঢেকুরে। বিষমুক্ত আনার নিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসে, মনে হয় তার মা-ই যেন হাসছেন- জানালেন উদ্যোক্তা আল আমিন।
আল আমিনের এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হচ্ছে অসংখ্য যুবক। সাফল্যের খতিয়ানে প্রতি মাসে শুধুমাত্র চারা বিক্রি করেই তিনি ঘরে তুলছেন ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এতে করে আত্মনির্ভরশীলতা এসেছে আল আমিনের। আনার হচ্ছে ‘জান্নাতি ফল’। মায়ের অসুস্থতার সময় আল আমিন বুঝেছিলেন আনারের গুরুত্ব। পুষ্টিবিজ্ঞানেও এর গুণাগুণ অপরিসীম।
আল আমিনের বাগান আজ কেবল ফল আর চারার সমারোহ নয়; এটি একটি জীবন্ত স্মৃতিসৌধ। প্রতিটি আনারের লাল দানায় মিশে আছে এক সন্তানের মাতৃভক্তি। তার এই উদ্যোগে আজ অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আল আমিন প্রমাণ করেছেন, যদি লক্ষ্য থাকে অটুট আর মনে থাকে সততা, তবে শোককেও শক্তিতে রূপান্তর করে সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।






