
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদী রক্ষা বাঁধে অন্তত ৬৫ মিটার এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে নদী রক্ষা বাঁধ। এদিকে, চার দিনেও স্বাভাবিক হয়নি ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন চলাচল।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে আরও কয়েক দফায় ধসে যায়। একই সঙ্গে মহাসড়কের মাঝখানে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কে ফাটল ও ভাঙ্গনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ভাঙ্গন রোধে জরুরি ভিত্তিতে নদীতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে শাখারিয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেলে গোপালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা কবলিত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও কার্যকর নদী শাসনের অভাবে যমুনার ভাঙ্গন এ বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা দ্রুত টেকসই নদী শাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শামসুল আলম বলেন, শাখারিয়া ও নলিন এলাকার ভাঙ্গন কবলিত স্থানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সড়কে ফাটল ও ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর থেকে ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়।
এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদ বলেন, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের চাপ বেড়েছে। ভাঙ্গনের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন বলেন, পানির তীব্র চাপে গত চার দিনে ৮৫ মিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে নলিন বাজার হয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে করে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের দাবী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মহাসড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত করার।





