
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঘাটাইল উপজেলা হাসপাতালের সরকারি ওষুধ পিকআপ ভর্তি করে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় যমুনা নদীতে ফেলার ঘটনায় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারি করা আদেশে বদলি ও পদায়ন করা কর্মকর্তাকে (৩০ আগস্টের) মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন তিনি।
এর আগে, গত বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিকআপভর্তি সরকারি ওষুধ ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলার সময় গোবিন্দাসী ইউনিয়নের টি-রোডে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পরে পিকআপের চালককে আটক করে ওষুধসহ গাড়িটি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিনগত রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে ঘটনার মূল ব্যক্তিদের আড়াল করতে পিকআপ চালক আজমতের বিরুদ্ধে চুরির মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে আজমতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে মূল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পিকআপ চালক আজমতের বিরুদ্ধে মামলা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল খাদ্যগুদামের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ আগস্ট) সরকারি ওষুধ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।
ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা হাসপাতাল ও থানা ঘেরাও করেন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশের আশ্বাসে পর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।





